॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ২৭ ॥

উচ্চৈঃশ্রবসমশ্বানাং বিদ্ধি মামমৃতোদ্ভবম্ ।
ঐরাবতং গজেন্দ্রাণাং নরাণাং চ নরাধিপম্ ॥ ১০.২৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

অশ্বদের মধ্যে আমাকে অমৃতমন্থন থেকে উৎপন্ন 'উচ্চৈঃশ্রবা' বলে জানো। হস্তিশ্রেষ্ঠদের মধ্যে আমি 'ঐরাবত' এবং মানুষদের মধ্যে আমি সম্রাট (নরাধিপ)।

১. উচ্চৈঃশ্রবা: সমুদ্র মন্থনের সময় উৎপন্ন দিব্য সাদা ঘোড়া। গতির চরম শিখর।

২. ঐরাবত: ইন্দ্রের বাহন, সাদা হাতি। রাজকীয় আভিজাত্য ও শক্তির প্রতীক।

৩. নরাধিপ: যে রাজা প্রজা পালন করেন, তাঁর শাসন করার যে ঐশ্বরিক ক্ষমতা, তা কৃষ্ণ।

রাজা যদি ধর্মপরায়ণ হন, তবে তিনি ভগবানের প্রতিনিধি। তাঁর দায়িত্ব ও ক্ষমতার মূলে আছেন কৃষ্ণ। উচ্চৈঃশ্রবা ও ঐরাবতের মতো অসাধারণ ও দুর্লভ বস্তুগুলো আমাদের মনে করায় যে জগতটা সাধারণ নয়, এর পেছনে এক বিশেষ পরিকল্পনা আছে।

এটি আমাদের নেতৃত্বের প্রতি সম্মান এবং নিজের শক্তিকে সঠিক পথে চালিত করার শিক্ষা দেয়। শ্রেষ্ঠত্ব যেখানেই আছে, সেখানেই কৃষ্ণের হাতের ছাপ আছে।