মৃত্যুঃ সর্বহরশ্চাহমুদ্ভবশ্চ ভবিষ্যতাম্ ।
কীর্তিঃ শ্রীর্বাক্ চ নারীণাং স্মৃতির্মেধা ধৃতিঃ ক্ষমা ॥ ১০.৩৪ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমি সর্বগ্রাসী মৃত্যু এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে তার উৎস। নারীসুলভ গুণাবলির মধ্যে আমি কীর্তি, শ্রী, বাক্য, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি ও ক্ষমা।
১. সর্বহর মৃত্যু: যা সব কিছু কেড়ে নেয়। মৃত্যুর অমোঘ শক্তিও পরমেশ্বরের এক রূপ।
২. সাতটি দেবীগুণ: যশ, সৌন্দর্য, বাক্য, স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও ক্ষমা—এই গুণগুলো কৃষ্ণেরই বিভূতি।
৩. উদ্ভবঃ: নতুনের জন্মের যে সম্ভাবনা, তাও কৃষ্ণের দান।
কৃষ্ণ এখানে ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অদ্ভুত ভারসাম্য দেখিয়েছেন। মৃত্যু ভয়ংকর হলেও তা কৃষ্ণেরই এক রূপ যা পুরনোকে সরিয়ে নতুনের জায়গা করে দেয়। আবার মানুষের ভেতরের সূক্ষ্ম গুণগুলোও তাঁরই প্রকাশ। আমরা যখন কারো বুদ্ধি বা ধৈর্য দেখে মুগ্ধ হই, তখন আসলে কৃষ্ণেরই প্রশংসা করি। এটি আমাদের প্রতিটি গুণের জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায় এবং মৃত্যুর ভয় থেকে মুক্ত করে।