॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ২৭ ॥

নৈতে সৃতী পার্থ জানন্যোগী মুহ্যতি কশ্চন ।
তস্মাৎসর্বেষু কালেষু যোগযুক্তো ভবার্জুন ॥ ৮.২৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পার্থ! এই দুটি পথ সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত কোনো যোগী মোহগ্রস্ত হন না। অতএব হে অর্জুন! তুমি সর্বদা যোগযুক্ত হও।

১. মোহমুক্তি: যিনি জানেন যে মৃত্যুর পর গন্তব্য কী হতে পারে, তিনি জাগতিক প্রলোভনে পা দেন না। তিনি জানেন যে ছোট সুখের চেয়ে বড় মুক্তি অনেক বেশি দামি।

২. সর্বদা যোগযুক্ত হওয়ার নির্দেশ: কৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন না যে কেবল মৃত্যুর সময় যোগ করো। তিনি বলছেন 'সর্বেষু কালেষু'—অর্থাৎ সারাক্ষণ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে কৃষ্ণের সাথে যুক্ত থাকাই হলো আসল যোগ।

৩. সজাগ সাধনা: যখন একজন সাধক এই রহস্যগুলো জানেন, তখন তিনি আর সময়ের অপচয় করেন না। তিনি জানেন যে যেকোনো মুহূর্তে ডাক আসতে পারে, তাই তিনি সবসময় প্রস্তুত থাকেন।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে ব্যবহারিক উপদেশ দিচ্ছেন। যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়েও তিনি বলছেন 'যোগযুক্ত হও'। এর মানে হলো কাজ করো, কিন্তু মন থাকুক পরমাত্মায়। এটিই হলো গীতার মূল রহস্য।

মানুষ কেন মোহগ্রস্ত হয়? কারণ সে মনে করে এই পৃথিবীই চিরস্থায়ী। কিন্তু এই দুটি পথের জ্ঞান মানুষের দৃষ্টি খুলে দেয়। তখন সে বোঝে যে সে এক যাত্রী মাত্র। একজন সচেতন যাত্রী যেমন সবসময় গন্তব্যের কথা মনে রাখে, যোগীও তেমনি সবসময় মুক্তির কথা ভাবেন।

এটি আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে সার্থক করার প্রেরণা দেয়। কাজ, পড়াশোনা বা লড়াই—সবকিছুর মাঝেও যদি আমরা ঈশ্বরকে মনে রাখি, তবে আমাদের জীবনটাই এক মহাযোগে পরিণত হয়। এটিই হলো মায়ার হাত থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ উপায়।