॥ অধ্যায় ১, শ্লোক ৭ ॥

অস্মাকং তু বিশিষ্ট। যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম ।
নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তান্ ব্রবীমি তে ॥ ৭ ॥

সরল ভাবার্থ

হে দ্বিজশ্রেষ্ঠ! আমাদের পক্ষেও যে সমস্ত প্রধান সেনাপতিরা রয়েছেন, আপনার অবগতির জন্য আমি তাঁদের নাম বলছি।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

পাণ্ডব পক্ষের বীরদের কথা বলতে বলতে দুর্যোধন যখন দেখলেন যে তিনি অনেকটা ভয় পেয়ে যাচ্ছেন, তখন তিনি চটজলদি প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে নিজের পক্ষের বীরদের কথা বলতে শুরু করলেন। তিনি দ্রোণাচার্যকে 'দ্বিজোত্তম' বলে সম্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি গুরুকে তাঁর উচ্চ মর্যাদার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন এবং পরোক্ষভাবে তাঁকে যুদ্ধে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে প্ররোচিত করছেন। দুর্যোধন বলতে চাইছেন যে, শত্রু পক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কৌরবদের পক্ষেও অজেয় সব বীর রয়েছেন।

এই শ্লোকটি দুর্যোধনের কূটনীতির একটি চরম বহিঃপ্রকাশ। তিনি জানেন যে দ্রোণাচার্যের মনে পাণ্ডবদের প্রতি এক ধরণের স্নেহ আছে, তাই তিনি বারবার গুরুর কাছে নিজের শক্তির বর্ণনা দিয়ে তাঁর আনুগত্য নিশ্চিত করতে চাইছেন। ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এটি 'রাজসিক' বুদ্ধির লক্ষণ। রাজসিক মনের মানুষ সব সময় নিজের প্রতাপ ও নিজের সেনাপতিদের নিয়ে গর্ব করে। দুর্যোধন এখানে 'মম সৈন্যস্য' (আমার সৈন্য) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা তাঁর তীব্র মালিকানাবোধ ও অহংকারকে তুলে ধরে। যদিও তিনি জানেন যে তাঁর পক্ষের অনেক বীরই পাণ্ডবদের মতো ন্যায়নিষ্ঠ নন, তবুও তিনি সংখ্যা ও বাহুবলের দম্ভ দিয়ে সেই সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই আলোচনা আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ—যেখানে দুর্যোধন ভয় ও দম্ভের মাঝখানে দুলছেন। তিনি গুরুর কাছে তাঁর সেনাপতিদের নাম বলছেন যাতে নিজের আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরে পান। এটি আমাদের শেখায় যে, মানুষ যখন সত্য হারিয়ে ফেলে, তখন সে কেবল বাহ্যিক শক্তির নাম জপ করেই শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করে।


[ছবি: দুর্যোধন আত্মবিশ্বাসের অভিনয় করে হাত নেড়ে দ্রোণাচার্যকে নিজের বাহিনীর বীরদের দেখাচ্ছেন।]