॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ১ ॥

শ্রীভগবানুবাচ ।
ভূয় এব মহাবাহো শৃণু মে পরমং বচঃ ।
যত্তেঽহং প্রীয়মাণায় বক্ষ্যামি হিতকাম্যয়া ॥ ১০.১ ॥

সরল ভাবার্থ:

শ্রীভগবান বললেন—হে মহাবাহো! তুমি আমার প্রিয় সখা, তাই তোমার মঙ্গলের জন্য আমি পুনরায় আমার পরম উপদেশ বলছি, তুমি তা মন দিয়ে শ্রবণ করো।

১. ভূয় এব বা পুনরায়: যদিও কৃষ্ণ আগে অনেক কথা বলেছেন, তবুও তিনি আবার বলছেন। কারণ ঈশ্বরীয় তত্ত্ব এতই গভীর যে বারবার শুনলে তবেই তা হৃদয়ে গেঁথে যায়।

২. প্রীয়মাণায়: অর্জুন কৃষ্ণের পরম প্রিয়। ভক্ত যখন ভক্তিভরে কথা শোনে, তখন ভগবান আরও রহস্য বলতে উৎসুক হন।

৩. হিতকাম্যয়া: এই জ্ঞান কেবল তর্কের জন্য নয়, এটি অর্জুনের (এবং আমাদের) প্রকৃত মঙ্গলের জন্য দেওয়া হচ্ছে।

এই শ্লোকটি দিয়ে 'বিভূতি যোগ'-এর সূচনা হচ্ছে। 'বিভূতি' মানে হলো বিশেষ ঐশ্বর্য বা প্রকাশ। কৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে 'মহাবাহো' বলে সম্বোধন করছেন, যা তাঁর বীরত্বের প্রতীক। কিন্তু এই বীরত্বের চেয়েও বড় হলো কৃষ্ণের কথা শোনার আগ্রহ।

আমাদের জীবনেও আমরা অনেক সময় এক কথা বারবার শুনি, কিন্তু ভগবানের কথা যতবার শোনা যায়, ততবারই নতুন নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। এটিই হলো আধ্যাত্মিক জ্ঞানের বিশেষত্ব। কৃষ্ণ চান অর্জুন যেন তাঁর ঐশ্বরিক মহিমা শুনে মায়ার প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেন।

ধর্মীয় বিচারে, এটি গুরুর করুণার পরিচয় দেয়। গুরু শিষ্যকে কেবল একবার বলেই থেমে যান না, শিষ্যের হিতের জন্য তিনি বারবার উপদেশ দেন। আমাদের উচিত অর্জুনের মতো 'প্রীয়মাণায়' বা প্রেমপূর্ণ হৃদয়ে সেই বাণী গ্রহণ করা।