ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভাবং ন মহর্ষয়ঃ ।
অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বত্রঃ ॥ ১০.২ ॥
সরল ভাবার্থ:
দেবতাগণ বা মহর্ষিগণ—কেউই আমার প্রভাব বা উৎপত্তির কথা জানেন না। কারণ আমিই দেবতা ও মহর্ষিদের আদি কারণ।
১. অজ্ঞাত ঈশ্বর: দেবতা ও ঋষিরা অনেক জ্ঞানী হতে পারেন, কিন্তু তাঁরাও কৃষ্ণের পূর্ণ রহস্য জানেন না। কারণ তাঁরা কৃষ্ণের সৃষ্টির অংশ।
২. আদি কারণ: সন্তান যেমন তার পিতার জন্মের ইতিহাস নিজে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, তেমনি সৃষ্টিও তার স্রষ্টার আদি রহস্য পুরোপুরি জানতে পারে না।
৩. সর্বত্রঃ বা সম্পূর্ণভাবে: শ্রীকৃষ্ণই হলেন সেই পরম উৎস যেখান থেকে দেবতারাও শক্তি পান।
এই শ্লোকটি মানুষের এবং এমনকি দেবতাদের অহংকার চূর্ণ করে দেয়। আমরা ভাবি অনেক পড়ে বা তপস্যা করে ঈশ্বরকে চিনে ফেলেছি। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন, বুদ্ধিবলে তাঁকে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ বুদ্ধি নিজেই তাঁর তৈরি।
দেবতারা অমৃত পান করে অমর হন ঠিকই, কিন্তু তাঁরাও কৃষ্ণের মায়ার অধীন। ঋষিরা হাজার বছর ধ্যান করেন, কিন্তু কৃষ্ণের 'প্রভাব' বা প্রভাবের সীমা তাঁরাও ছুঁতে পারেন না। এটি আমাদের মনে বিনয় ও বিস্ময় তৈরি করে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি প্রমাণ করে যে কৃষ্ণই হলেন 'দেবদেব' বা দেবতাদেরও দেব। আমরা যখন কোনো দেবতার পূজা করি, তখন মনে রাখা উচিত যে তাঁদের ক্ষমতার উৎসও শ্রীকৃষ্ণ। এই জ্ঞান আমাদের ভক্তিকে একনিষ্ঠ ও দৃঢ় করে।