॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ৩ ॥

যো মামজমনাদিং চ বেত্তি লোকমহেশ্বরম্ ।
অসংমূঢ়ঃ স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে ॥ ১০.৩ ॥

সরল ভাবার্থ:

যিনি আমাকে জন্মরহিত (অজ), অনাদি এবং জগতের পরমেশ্বর বলে জানেন, তিনিই মানুষের মধ্যে মোহমুক্ত এবং তিনিই সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি লাভ করেন।

১. অজং ও অনাদিং: কৃষ্ণের কোনো শুরু নেই এবং তাঁর কোনো জন্ম নেই (মানুষের মতো)। তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে।

২. অসংমূঢ়ঃ বা মোহমুক্ত: যে ব্যক্তি কৃষ্ণের এই দিব্য স্বরূপ চিনতে পারে, জগতের মায়া তাকে আর ভোলাতে পারে না।

৩. পাপমুক্তি: কৃষ্ণকে পরমেশ্বর হিসেবে জানার সাথে সাথেই মানুষের অন্তরের অন্ধকার ও পাপ ধুয়ে মুছে যায়।

কৃষ্ণ এখানে এক বড় গ্যারান্টি দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে তাঁকে 'জানলে'ই সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু এই জানা মানে কেবল তথ্য জানা নয়, এটি হলো হৃদয়ের উপলব্ধি। যখন আমরা জানি যে তিনি 'লোকমহেশ্বর', তখন আমরা আর ছোট জিনিসের পেছনে ছুটে জীবন নষ্ট করি না।

মরণশীল মানুষদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ যে অমরের সন্ধান পেয়েছে। আমরা সবাই কোনো না কোনো মোহে বা কনফিউশনে (সংমূঢ়) ভুগছি। কিন্তু কৃষ্ণের শরণাগতি আমাদের স্বচ্ছ দৃষ্টি বা ক্ল্যারিটি দেয়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি মুক্তির সহজ পথ। আমাদের নিজেদের পাপের ভারে ভেঙে পড়ার দরকার নেই; যদি আমরা কৃষ্ণের পরমত্ব স্বীকার করি এবং তাঁর দিকে পা বাড়াই, তবে তিনি আমাদের সব দায়ভার গ্রহণ করেন। এটি পরম আশার বাণী।