বুদ্ধির্জ্ঞানমসংমোহঃ ক্ষমা সত্যং দমঃ শমঃ ।
সুখং দুঃখং ভবোঽভাবো ভয়ং চাভয়মেব চ ॥ ১০.৪ ॥
অহিংসা সমতা তুষ্টিস্তপো দানং যশোঽযশঃ ।
ভবন্তি ভাবা ভূতানাং মত্ত এব পৃথগ্বিধাঃ ॥ ১০.৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
বুদ্ধি, জ্ঞান, মোহহীনতা, ক্ষমা, সত্য, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, মনের শান্তি, সুখ-দুঃখ, জন্ম-মৃত্যু, ভয়-অভয়, অহিংসা, সমতা, সন্তোষ, তপস্যা, দান এবং যশ-অপযশ—প্রাণীদের এই বিবিধ ভাবসমূহ আমা হতেই উৎপন্ন হয়।
১. মানসিক ভাবের উৎস: আমাদের ভেতরে যত প্রকার আবেগ বা গুণ আছে, তা সে ভালো হোক বা মন্দ (যেমন যশ বা অযশ), তার আদি কারণ শ্রীকৃষ্ণ।
২. দ্বৈততার সামঞ্জস্য: সুখ যেমন তাঁর থেকে আসে, দুঃখও তাঁরই বিধান। ভয় ও অভয়—উভয়ই তাঁরই মায়ার খেলা।
৩. পৃথগ্বিধাঃ বা বিবিধ ভাব: জগত বিচিত্র। একেক জনের স্বভাব একেক রকম। এই সব বৈচিত্র্যই কৃষ্ণের বিভূতি।
এই শ্লোক দুটি আমাদের এক গভীর জীবনদর্শন শেখায়। আমরা সাধারণত ভালো গুণগুলোকে ঈশ্বরের দান মনে করি, কিন্তু খারাপ পরিস্থিতি বা দুঃখকে অভিশাপ মনে করি। কৃষ্ণ বলছেন—সবই আমি। সুখ যেমন তোমাকে আনন্দ দেয়, দুঃখও তোমাকে শিক্ষা দিতে আমার কাছ থেকেই আসে।
বুদ্ধি (সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা), জ্ঞান (সত্যকে চেনা), ক্ষমা (অন্যের অপরাধ ভুলে যাওয়া)—এই সব দিব্য গুণ যখন আমাদের ভেতর প্রকাশ পায়, তখন বুঝতে হবে কৃষ্ণের শক্তি আমাদের ভেতর কাজ করছে। আবার যখন আমরা ভয়ের মুখোমুখি হই, সেটিও তাঁরই মায়া যা আমাদের তাঁর কাছে ফিরতে বাধ্য করে।
ধর্মীয় বিচারে, এই ব্যাখ্যাটি আমাদের সব পরিস্থিতিতে স্থির থাকতে সাহায্য করে। যখন আমরা জানি যে 'যশ' ও 'অযশ' দুইই কৃষ্ণের হাত থেকে আসছে, তখন আমরা সফলতায় যেমন অহংকারী হই না, ব্যর্থতায় তেমনি ভেঙে পড়ি না। এটি আমাদের এক শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ (Balanced) জীবন দান করে। আমরা বুঝতে পারি যে জীবনের প্রতিটি ইমোশন আসলে তাঁরই এক একটি রঙের খেলা।