॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ৬ ॥

মহর্ষয়ঃ সপ্ত পূর্বে চত্বারো মনবস্তথা ।
মদ্ভাবা মানসা জাতা যেষাং লোক ইমাঃ প্রজাঃ ॥ ১০.৬ ॥

সরল ভাবার্থ:

সপ্ত মহর্ষি, তাঁদের পূর্বে উৎপন্ন আরও চারজন মহর্ষি (সনকাদি) এবং চতুর্দশ মনু—তাঁরা সবাই আমার মনের সংকল্প থেকে উৎপন্ন এবং আমারই ভাবপ্রাপ্ত। জগতের এই সমস্ত প্রজা তাঁদের থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।

১. মানস পুত্র: ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির শুরুতে কৃষ্ণ তাঁর মন থেকে এই আদি পুরুষদের সৃষ্টি করেছেন। এঁরাই হলেন মানবজাতির পূর্বপুরুষ।

২. মদ্ভাবা বা ভগবদ্ভাব: যদিও তাঁরা আলাদা ব্যক্তি, কিন্তু তাঁদের ভেতরে ভগবানেরই বিশেষ শক্তি ও ভাব কাজ করে।

৩. প্রজা সৃষ্টি: বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ও প্রাণী আসলে এই মহর্ষি ও মনুদের বংশধর। অর্থাৎ আমাদের সবার শেকড় শ্রীকৃষ্ণের মনে।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে সৃষ্টির ইতিহাস বা বংশলতিকা বলছেন। আমরা অনেক সময় ভাবি মানুষ বিবর্তনের ফল। কিন্তু গীতা বলছে, মানুষের চেতনা এক দিব্য উৎস থেকে এসেছে। সপ্তর্ষি ও মনুরা হলেন সেই হাই-লেভেল ইঞ্জিনিয়ার যারা কৃষ্ণের নির্দেশে এই জগত সাজিয়েছেন।

এটি আমাদের মধ্যে এক একত্বের বোধ তৈরি করে। যদি আমরা সবাই একই মনুদের বংশধর হই এবং তাঁরা যদি কৃষ্ণের মনের সৃষ্টি হন, তবে আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। আমরা সবাই আসলে এক পরম পিতারই সন্তান।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জাগায়। আমরা কোনো সাধারণ প্রাণী নই, আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন দিব্য ঋষি। এই বোধ আমাদের হীনম্মন্যতা দূর করে এবং উচ্চতর আধ্যাত্মিক জীবন যাপনে উৎসাহিত করে।