॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ৭ ॥

এতং বিভূতিং যোগং চ মম যো বেত্তি তত্ত্বতঃ ।
সোঽবিকম্পেন যোগেন যুজ্যতে নাত্র সংশয়ঃ ॥ ১০.৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

যিনি আমার এই বিভূতি (ঐশ্বর্য) এবং যোগশক্তিকে তত্ত্বগতভাবে জানেন, তিনি অবিচলিত যোগের দ্বারা আমাতে যুক্ত হন—এতে কোনো সংশয় নেই।

১. বিভূতি ও যোগ: বিভূতি হলো তাঁর প্রকাশ (যেমন সূর্য, ঋষি বা বুদ্ধি), আর যোগ হলো তাঁর সেই অচিন্ত্য শক্তি যা দিয়ে তিনি সব নিয়ন্ত্রণ করেন।

২. তত্ত্বতঃ বা সারমর্ম: ওপর ওপর জানা নয়, বরং হৃদয়ে বিশ্বাস করা যে যা কিছু মহান তা-ই কৃষ্ণ—এভাবে জানাই হলো তত্ত্বজ্ঞান।

৩. অবিকম্প যোগ: এই জ্ঞানটি মানুষের মনকে পাথরের মতো স্থির করে দেয়। তখন আর কোনো সন্দেহ বা ভয় তাকে নাড়াতে পারে না।

কেন আমরা ডগমগ করি বা আমাদের বিশ্বাস কেন টলে যায়? কারণ আমরা কৃষ্ণের মহিমা পুরোপুরি জানি না। যখন আমরা জানব যে জগতের প্রতিটি শক্তিশালী ও সুন্দর বস্তুর পেছনে স্বয়ং কৃষ্ণ আছেন, তখন আমাদের ভক্তি হবে 'অবিকম্প' বা অটল।

অর্জুন এখন দ্বিধাগ্রস্ত, কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—যদি তুমি আমার বিভূতি বুঝতে পারো, তবে তোমার সব দ্বিধা কেটে যাবে। এই জ্ঞানই মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। যখন আমরা জানি আমাদের ভগবান কত শক্তিশালী, তখন আমরা লড়াইয়ের সাহস পাই।

ধর্মীয় বিচারে, এটি একটি গ্যারান্টি কার্ড। এই জ্ঞানটি হৃদয়ে ধারণ করলে যোগ বা সংযোগ এমনিতেই ঘটে যায়। আমাদের আর আলাদা করে কসরত করতে হয় না; শ্রদ্ধাই আমাদের কৃষ্ণের সাথে এক করে দেয়।