॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ৮ ॥

অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে ।
ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমন্বিতাঃ ॥ ১০.৮ ॥

সরল ভাবার্থ:

আমিই সবকিছুর উৎপত্তি বা সৃষ্টির উৎস এবং আমার থেকেই সবকিছু পরিচালিত হয়—একথা জেনে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ পরম অনুরাগের সাথে আমাকে ভজনা করেন।

১. সর্বস্য প্রভবো: জগতটা কোনো অন্ধ শক্তির খেলা নয়। এটি এক সজাগ ও চৈতন্যময় সত্তার সৃষ্টি। কৃষ্ণই সেই আদি বিন্দু।

২. মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে: একটি পরমাণুর ঘূর্ণন থেকে শুরু করে নক্ষত্রের গতি—সবই তাঁর নির্দেশে ঘটে।

৩. বুধা ভাবসমন্বিতাঃ: প্রকৃত পণ্ডিত (বুধ) তিনিই যিনি অনেক বই পড়েছেন তা নয়, বরং যিনি এই ধ্রুব সত্যটি বুঝতে পেরেছেন এবং ভক্তিরসে ডুবেছেন।

এই শ্লোকটি চতুঃশ্লোকী গীতার (৮-১১ শ্লোক) প্রথম শ্লোক। একে গীতার সার বলা হয়। এখানে জ্ঞান ও ভক্তির মিলন ঘটেছে। মানুষ সাধারণত জ্ঞান হলে শুষ্ক হয়ে যায়, কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—আসল জ্ঞান হলে মানুষ আরও বেশি ভাবুক (Emotional) ও ভক্ত হয়ে ওঠে।

যখন আমরা জানি যে আমাদের চারপাশের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি ফুল এবং প্রতিটি পরিস্থিতি কৃষ্ণের থেকেই আসছে, তখন আমরা আর কাউকে ঘৃণা করতে পারি না। আমাদের পুরো জগতটাই কৃষ্ণের মন্দির হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের 'ঈশ্বরভীতি' থেকে 'ঈশ্বরপ্রেমের' দিকে নিয়ে যায়। তিনি কেবল দূরে বসে থাকা কোনো বিচারক নন, তিনি আমাদের প্রতিটি কাজের প্রেরণাদাতা। এই বোধটিই হলো পরম শান্তি।