মচ্চিত্তা মদ্গতপ্ৰাণা বোধয়ন্তঃ পরস্পরম্ ।
কথয়ন্তশ্চ মাং নিত্যং তুষ্যন্তি চ রমন্তি চ ॥ ১০.৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
যাঁদের চিত্ত আমাতে অর্পিত এবং প্রাণ আমাতে নিবেদিত, তাঁরা পরস্পরের মধ্যে আমার কথা আলোচনা করে এবং সর্বদা আমার মহিমা কীর্তন করে পরম সন্তোষ ও দিব্য আনন্দ উপভোগ করেন।
১. মচ্চিত্তা ও মদ্গতপ্ৰাণা: তাঁদের মন ও জীবন কৃষ্ণের সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যে তিনি ছাড়া তাঁরা আর কিছুই ভাবতে পারেন না।
২. পরস্পরং বোধয়ন্তঃ: তাঁরা একা একা ভক্তি করেন না, বরং অন্যদের সাথে কৃষ্ণকথা আলোচনা করে আনন্দ পান। এটিই হলো সৎসঙ্গ।
৩. তুষ্যন্তি চ রমন্তি চ: এই জীবন কোনো কষ্টের নয়। এতে গভীর তৃপ্তি (সন্তোষ) এবং এক দিব্য মাদকতা (রমন্তি) আছে।
ভক্তদের জীবন কেমন হয়, কৃষ্ণ এখানে তার একটি সুন্দর চিত্র এঁকেছেন। তাঁরা জাগতিক পরচর্চা বা পরনিন্দা করেন না। তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো পরম সত্য। এই 'কৃষ্ণকথা' তাঁদের হৃদয়ে অমৃতের মতো কাজ করে।
আমরা সাধারণত আনন্দ খুঁজি পার্টিতে বা সিনেমা দেখে। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন, তাঁর কথা আলোচনার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তার কাছে জগতের সব সুখ তুচ্ছ। এটি হলো আত্মার খাদ্য।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের 'সৎসঙ্গ'-এর গুরুত্ব বোঝায়। যখন সমমনা ভক্তরা এক হয়, তখন সেখানে ভগবানের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। এই ভাবে যুক্ত থাকাই হলো মায়ার হাত থেকে বাঁচার সহজ উপায়।