॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ১০ ॥

তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতিপূর্বকম্ ।
দদামি বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে ॥ ১০.১০ ॥

সরল ভাবার্থ:

সেইসব সতত যুক্ত এবং প্রীতিপূর্বাক ভজনাকারী ভক্তদের আমি সেই বুদ্ধিযোগ দান করি, যার মাধ্যমে তাঁরা আমাকে লাভ করতে পারেন।

১. প্রীতিপূর্বকম্: ভগবানকে ডাকা ভয়ের জন্য নয়, হতে হবে ভালোবাসার জন্য। ভালোবাসা যেখানে থাকে, কৃষ্ণ সেখানে বাধা পড়েন।

২. বুদ্ধিযোগ: এটি কৃষ্ণের এক বিশেষ দান। আমরা আমাদের সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে তাঁকে বুঝতে পারি না। তিনি ভেতর থেকে যে আলো দেন, তাকেই বলে বুদ্ধিযোগ।

৩. মামুপযান্তি: এই দিব্য বুদ্ধির সাহায্যেই ভক্ত শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের পরম ধামে পৌঁছাতে পারে।

এটি ভক্তের জন্য কৃষ্ণের এক বিশাল আশ্বাস। আমরা অনেক সময় ভাবি—আমি তো পড়াশোনা জানি না বা বড় বড় মন্ত্র জানি না, আমি কি ভগবানকে পাব? কৃষ্ণ বলছেন, তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসো, তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসার জন্য যে বুদ্ধি বা গাইডেন্স দরকার, তা আমি নিজেই তোমাকে দিয়ে দেব।

এর মানে হলো, ঈশ্বর পাওয়ার দায়িত্বটি ঈশ্বর নিজেই নিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের শুধু তাঁর দিকে হাত বাড়াতে হবে। তিনি আমাদের মনের ভেতর থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং সঠিক পথ চেনার শক্তি জোগান।

ধর্মীয় বিচারে, এটি সমর্পণের চূড়ান্ত পর্যায়। যখন আমরা কৃষ্ণের সাথে 'সততযুক্ত' (সারাক্ষণ কানেক্টেড) থাকি, তখন আমাদের ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না। এই 'বুদ্ধিযোগ' হলো অন্ধের লাঠির মতো যা আমাদের জন্ম-মৃত্যুর অন্ধকার পথ পেরিয়ে কৃষ্ণের আলোর জগতে নিয়ে যায়।