তেষামেবানুকম্পার্থমহমজ্ঞানজং তমঃ ।
নাশয়াম্যাত্মভাবস্থো জ্ঞানদীপেন ভাস্বতা ॥ ১০.১১ ॥
সরল ভাবার্থ:
তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার জন্য আমি তাদের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হয়ে উজ্জ্বল জ্ঞানপ্রদীপের দ্বারা অজ্ঞানতাজনিত অন্ধকার বিনাশ করি।
১. অনুকম্পার্থম্: ঈশ্বর তাঁর ভক্তের জন্য দয়া বা করুণা পরবশ হয়ে এই কাজ করেন। এটি কোনো বিনিময় নয়, এটি তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
২. আত্মভাবস্থো: কৃষ্ণ বাইরে কোথাও নেই, তিনি আমাদের হৃদয়েই 'পরমাত্মা' রূপে বসে আছেন। ভক্ত যখন ব্যাকুল হয়, তখন তিনি ভেতর থেকেই সাড়া দেন।
৩. জ্ঞানদীপেন: জ্ঞানকে এখানে প্রদীপের সাথে তুলনা করা হয়েছে। প্রদীপ যেমন এক নিমিষে অন্ধকার দূর করে, ভগবানের কৃপাও তেমনি মুহূর্তের মধ্যে মোহ দূর করে দেয়।
এই শ্লোকটি 'চতুঃশ্লোকী গীতা'র শেষ এবং সবচেয়ে বড় আশার বাণী। আমরা অনেক সময় ভাবি যে আমরা তো শাস্ত্র পড়িনি বা আমাদের বুদ্ধি কম, আমরা কীভাবে সত্যকে বুঝব? কৃষ্ণ বলছেন—তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসো, তোমার মনের ভেতরে থাকা সব অন্ধকার দূর করার দায়িত্ব আমার।
অন্ধকার নিজে থেকে যায় না, আলো আনলে অন্ধকার পালাতে বাধ্য হয়। আমাদের মনের ভেতর কাম, ক্রোধ ও লোভে যে অন্ধকার জমে আছে, তা কোনো তর্কে বা তত্ত্বে যাবে না। যখন কৃষ্ণের কৃপার আলো জ্বলে উঠবে, তখন আপনিই সত্য দেখা দেবে। এটি এক পরম আধ্যাত্মিক অপারেশন যা ভগবান নিজে করেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি গুরুর পরম করুণার রূপ। ভগবান এখানে বলছেন যে তিনি ভক্তের সারথি হয়ে তার জীবন পরিচালনা করেন। এই আশ্বাস আমাদের নিঃসঙ্গতা ও হতাশা থেকে মুক্তি দেয়। আমরা বুঝতে পারি যে আমরা একা লড়ছি না, স্বয়ং পরমেশ্বর আমাদের হৃদয়ে বসে আলো দেখাচ্ছেন।