অর্জুন উবাচ ।
পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্ ।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্ ॥ ১০.১২ ॥
আহুস্ত্বামৃষয়ঃ সর্বে দেবর্ষিন নারদস্তথা ।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে ॥ ১০.১৩ ॥
সরল ভাবার্থ:
অর্জুন বললেন—আপনিই পরম ব্রহ্ম, পরম ধাম এবং পরম পবিত্র। সমস্ত ঋষিগণ, দেবর্ষি নারদ, অসিত, দেবল এবং ব্যাসদেব আপনাকে শাশ্বত, দিব্য পুরুষ, আদিদেব, জন্মরহিত ও বিভু (সর্বব্যাপী) বলে বর্ণনা করেন। এখন আপনি নিজেও আমাকে তাই বলছেন।
১. স্বীকৃতি: অর্জুন এখানে কৃষ্ণের পরমেশ্বরত্ব স্বীকার করে নিচ্ছেন। এটি কেবল কৃষ্ণের কথা শুনে নয়, বরং পূর্বতন মহান ঋষিদের বাণীর সাথে মিলিয়ে তিনি নিশ্চিত হচ্ছেন।
২. পরং ধাম: ধাম মানে আশ্রয়। জগতটা কৃষ্ণের আশ্রয়েই টিকে আছে। তিনি সবার চরম গন্তব্য।
৩. ঋষিদের সাক্ষ্য: নারদ বা ব্যাসদেবের মতো ত্রিকালজ্ঞ ঋষিরা যা বলে গেছেন, কৃষ্ণ আজ তাই বলছেন। অর্থাৎ এই সত্য চিরকালীন এবং অভ্রান্ত।
এই শ্লোক দুটি অর্জুনের মোহভঙ্গের ইঙ্গিত দেয়। অর্জুন এতক্ষণ কৃষ্ণকে বন্ধু হিসেবে দেখলেও এখন বুঝতে পারছেন যে তাঁর সামনে স্বয়ং ব্রহ্ম দাঁড়িয়ে আছেন। 'পরং পবিত্র' বলার অর্থ হলো কৃষ্ণের সংস্পর্শে এলে যেকোনো অপবিত্র জিনিসও পবিত্র হয়ে যায়।
অর্জুন এখানে ঋষিদের নাম উল্লেখ করছেন কেন? কারণ মানুষের মন অনেক সময় সরাসরি কথা বিশ্বাস করতে চায় না। যখন সে দেখে যে বহু মহাপুরুষ একই কথা বলছেন, তখন তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়। অর্জুন বোঝাতে চাইছেন যে কৃষ্ণের ঈশ্বরত্ব কোনো কল্পনা নয়, এটি এক প্রতিষ্ঠিত সত্য।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের শেখায় যে সত্যকে জানতে হলে পরম্পরা এবং শাস্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। অর্জুনের এই বিনয় আমাদের জন্য আদর্শ। যখন আমরা পরমেশ্বরকে তাঁর আসল গৌরবে চিনতে পারি, তখনই আমাদের ভক্তি পূর্ণতা পায়। এই উপলব্ধিই একজন সাধককে সাধারণ মানুষ থেকে উন্নত স্তরে নিয়ে যায়।