সর্বমেতদৃতং মন্যে যন্মাং বদসি কেশব ।
ন হি তে ভগবন ব্যক্তিম্ বিদুর্দেবা ন দানবাঃ ॥ ১০.১৪ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে কেশব! আপনি আমাকে যা যা বললেন, সে সমস্তই আমি সত্য বলে মনে করি। হে ভগবান! আপনার আবির্ভাব বা স্বরূপ দেবতা কিংবা দানব—কেউই বুঝতে পারে না।
১. ঋতং মন্যে: ঋত মানে ধ্রুব সত্য। অর্জুনের মনে আর কোনো সংশয় নেই। তিনি কৃষ্ণের প্রতিটি শব্দকে ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
২. ব্যক্তিং বিদুর্দেবা: আপনার আসল স্বরূপ বা ব্যক্ত রূপ দেবতা ও দানবদের বুদ্ধির অগম্য। কারণ তাঁরা মায়ার এক একটি গুণের দ্বারা সীমাবদ্ধ।
৩. কেশবের সম্বোধন: কেশী নামক অসুর বিনাশকারী কৃষ্ণকে অর্জুন ডাকছেন, যেন কৃষ্ণ তাঁর মনের সংশয় রূপ অসুরকেও বিনাশ করেন।
অর্জুন এখানে মানুষের সীমাবদ্ধতা পরিষ্কার করছেন। দেবতা বা দানব—উভয়ই কৃষ্ণের থেকে আসা ক্ষমতার ব্যবহার করেন মাত্র। যেমন একটি বাল্ব জানে না বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসে, সে কেবল জ্বলে। মানুষ বা দেবতারাও কৃষ্ণের শক্তির প্রকাশ মাত্র।
ভগবানকে আমরা আমাদের লজিক বা যুক্তি দিয়ে মাপতে চাই, কিন্তু এটি অসম্ভব। কারণ লজিক তৈরি হয়েছে এই জগতের নিয়মে, আর ভগবান সেই নিয়মের ঊর্ধ্বে। অর্জুন বুঝতে পেরেছেন যে বিশ্বাসই হলো তাঁকে জানার একমাত্র চাবিকাঠি।
ধর্মীয় বিচারে, এটি সমর্পণের এক উচ্চস্তর। যখন আমরা বলি 'হে প্রভু, আপনি যা বলছেন সবই সত্য', তখন আমাদের অহংকার ধসে যায়। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ বুঝতে পারা সম্ভব নয়, তাঁকে কেবল অনুভব করা এবং তাঁর বাণীতে বিশ্বাস রাখাই হলো আসল জ্ঞান।