॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ১৫ ॥

স্বয়মেবাত্মনাত্মানং বেত্থ ত্বং পুরুষোত্তম ।
ভূতভাবন ভূতেশ দেবদেব জগৎপতে ॥ ১০.১৫ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পুরুষোত্তম! হে ভূতভাবন! হে ভূতেশ! হে দেবদেব! হে জগৎপতে! আপনি নিজেই নিজের দ্বারা নিজেকে জানেন।

১. বিবিধ সম্বোধন: অর্জুন এখানে ভক্তির আতিশয্যে কৃষ্ণকে পাঁচটি বিশেষ নামে ডেকেছেন। প্রতিটি নাম তাঁর সার্বভৌমত্বের পরিচয় দেয়।

২. স্বয়মেবাত্মনাত্মানং: ঈশ্বরকে বোঝার মতো দ্বিতীয় কোনো সত্তা নেই। কেবলমাত্র ঈশ্বরই নিজেকে পুরোপুরি জানতে পারেন। আমরা কেবল তাঁর কৃপায় সামান্য অংশ জানতে পারি।

৩. পুরুষোত্তম: ক্ষর ও অক্ষর—উভয় পুরুষের ঊর্ধ্বে যিনি, তিনিই পুরুষোত্তম। তিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা।

এই শ্লোকটি ভক্তির এক আনন্দময় বহিঃপ্রকাশ। অর্জুন যখন কৃষ্ণের মহিমা অনুভব করছেন, তখন তাঁর মুখ দিয়ে একের পর এক বিশেষণ বেরিয়ে আসছে। এটি যেন এক মহাজাগতিক স্তব। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ব্রহ্মাণ্ডের এই বিশালতা কৃষ্ণের কাছে অতি ক্ষুদ্র।

সূর্যের আলো পেতে যেমন মোমবাতি লাগে না, সূর্য নিজেই নিজেকে প্রকাশ করে—কৃষ্ণও তেমনি সপ্রকাশ। আমরা তাঁকে তখনই দেখতে পাই যখন তিনি নিজেই আমাদের ওপর আলো ফেলেন। অর্জুন এখানে কৃষ্ণের শ্রেষ্ঠত্বকে পাঁচবার প্রণাম জানাচ্ছেন।

ধর্মীয় বিচারে, এই নামগুলোর জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ী। 'জগৎপতে' বলার মাধ্যমে আমরা স্বীকার করি যে আমাদের ছোট জীবনটিও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। এই শ্লোকটি আমাদের হৃদয়ে এক বিশাল শ্রদ্ধা ও প্রেমের সঞ্চার করে। আমরা বুঝতে পারি আমাদের ভগবান কত মহান!