বক্তুমর্হস্যশেষেন দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ ।
যাভির্বিভূতিভির্লোকানিমাংস্ত্বং ব্যাপ্য তিষ্ঠসি ॥ ১০.১৬ ॥
সরল ভাবার্থ:
আপনার সেই সমস্ত দিব্য বিভূতির কথা আপনি দয়া করে বিস্তারিতভাবে বলুন, যে সমস্ত বিভূতির দ্বারা আপনি এই সমগ্র জগত পরিব্যাপ্ত করে আছেন।
১. অশেষেন বা বিস্তারিতভাবে: অর্জুনের তৃষ্ণা বেড়েছে। তিনি এখন কৃষ্ণের ঐশ্বর্যের প্রতিটি খুঁটিনাটি শুনতে চান।
২. দিব্যা বিভূতি: বিভূতি হলো ঈশ্বরের সেই অসাধারণ গুণ বা রূপ যা দেখলে মানুষের মন আপনা-আপনি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়।
৩. ব্যাপ্য তিষ্ঠসি: ঈশ্বর জগত সৃষ্টি করে দূরে চলে যাননি, তিনি জগতের কণা কণা হয়ে এর ভেতরেই মিশে আছেন।
অর্জুন এখানে একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর মতো প্রশ্ন করছেন। তিনি কেন এগুলো জানতে চান? কারণ তিনি যখন যুদ্ধের ময়দানে বা দৈনন্দিন জীবনে চলবেন, তখন তিনি যেন চারপাশের বস্তুর মাঝে কৃষ্ণকে দেখতে পান। এই জানাই তাকে সারাক্ষণ কৃষ্ণের সাথে যুক্ত রাখবে।
আমরা সাধারণত জগতকে দেখি কেবল জড় বস্তু হিসেবে। কিন্তু অর্জুন চাইছেন কৃষ্ণের সেই চশমাটি পেতে, যা দিয়ে দেখলে পাহাড়ের গাম্ভীর্য বা নদীর প্রবাহে কৃষ্ণেরই শক্তি দেখা যাবে। এটিই হলো জগতকে আধ্যাত্মিক নজরে দেখা।
ধর্মীয় বিচারে, এই কৌতূহল খুবই পবিত্র। ভক্ত যখন ভগবানের ঐশ্বর্য শুনতে চায়, তখন ভগবান অত্যন্ত প্রসন্ন হন। এটি আমাদের শেখায় যে জ্ঞান অর্জনের কোনো শেষ নেই। আমরা যত জানব, তত বেশি আমরা তাঁর প্রেমে পড়ব। অর্জুনের এই প্রশ্নই পরবর্তী শ্লোকগুলোতে কৃষ্ণের মহিমার দুয়ার খুলে দেয়।