কথং বিদ্যামহং যোগিংস্ত্বাং সদা পরিচিন্তয়ন ।
কেষু কেষু চ ভাবেষু চিন্ত্যোঽসি ভগবন ময়া ॥ ১০.১৭ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে যোগিন! সর্বদা আপনার চিন্তা করতে করতে আমি কীভাবে আপনাকে জানব? আর হে ভগবান! কোন কোন বিষয়ের মাধ্যমে আমি আপনাকে চিন্তা করব?
১. সদা পরিচিন্তয়ন: অর্জুনের লক্ষ্য হলো 'সতত যুক্ত' থাকা। তিনি এমন কোনো মুহূর্ত চান না যখন তিনি কৃষ্ণকে ভুলে থাকবেন।
২. ভাবেষু বা বিষয়সমূহ: সাধারণ মানুষের পক্ষে নিরাকার ব্রহ্মকে ধ্যান করা কঠিন। তাই অর্জুন এমন কিছু চাক্ষুষ বা দৃশ্যমান বস্তু জানতে চাইছেন যার দিকে তাকালে কৃষ্ণের কথা মনে পড়বে।
৩. যোগিন সম্বোধন: কৃষ্ণকে এখানে মহান যোগেশ্বর বলা হয়েছে যিনি নিজের মায়ার দ্বারা জগতকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
এই শ্লোকটি আমাদের মেডিটেশন বা ধ্যানের এক সহজ উপায় শেখায়। ধ্যান মানে কেবল চোখ বন্ধ করে বসে থাকা নয়; চোখ খুলে জগতের সব সুন্দর ও মহৎ জিনিসের মাঝে ঈশ্বরকে অনুভব করাও এক প্রকারের ধ্যান। অর্জুন সেই সহজ টেকনিকটিই শিখতে চাইছেন।
মানুষের মন চঞ্চল, সে কোনো না কোনো বিষয়ের ওপর আশ্রয় চায়। অর্জুন বলছেন—হে প্রভু, আমাকে এমন কিছু ক্লু (Clue) দিন যাতে পাহাড় দেখলে আপনার কথা মনে পড়ে, আগুন দেখলে আপনার তেজ অনুভব করি। এটিই হলো ভক্তিকে প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ করা।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের 'মনমনা ভব' হওয়ার রাস্তা দেখায়। যদি আমরা জানি যে সূর্যের তেজ কৃষ্ণের, তবে সূর্যোদয়ের সময় আমরা অজান্তেই কৃষ্ণকে স্মরণ করব। এইভাবে পুরো পৃথিবীটাই আমাদের জন্য ধ্যানের ঘরে পরিণত হবে। অর্জুনের এই ব্যাকুলতা আমাদের আধ্যাত্মিক সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে।