॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ১৮ ॥

বিস্তরেণাত্মনো যোগং বিভূতিং চ জনার্দন ।
ভূয়ঃ কথয় তৃপ্তির্হি শৃণ্বতো নাস্তি মেঽমৃতম্ ॥ ১০.১৮ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে জনার্দন! আপনার যোগশক্তি ও বিভূতিসমূহ পুনরায় বিস্তারিতভাবে বলুন। কারণ আপনার অমৃতময় বাণী শুনতে শুনতে আমার তৃপ্তি হচ্ছে না (আরও শুনতে ইচ্ছা করছে)।

১. অমৃত বাণী: কৃষ্ণের কথা অর্জুনের কাছে অমৃতের মতো। অমৃত পান করলে যেমন অমর হওয়া যায়, কৃষ্ণের কথা শুনলে তেমনি আত্মার মৃত্যুভয় কেটে যায়।

২. তৃপ্তির্হি নাস্তি: এটিই হলো প্রকৃত ভক্তের লক্ষণ। জগতের কথা শুনলে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই, কিন্তু ঈশ্বরের কথা শুনলে তৃষ্ণা আরও বেড়ে যায়।

৩. জনার্দন সম্বোধন: যিনি মানুষের (জন) অজ্ঞানতা বা সংকট দূর (অর্দন) করেন, তিনিই জনার্দন। অর্জুন তাঁর কাছে জ্ঞানের ভিক্ষা চাইছেন।

অর্জুন এখানে এক অসাধারণ অনুভূতির কথা বলেছেন। আমরা যখন প্রিয় কোনো মানুষের সাথে কথা বলি, তখন যেমন সময়ের খেয়াল থাকে না, অর্জুনের অবস্থাও ঠিক তাই। কৃষ্ণের কথা তাঁর কাছে এতই মধুর যে তিনি বারবার শুনতে চাইছেন।

আধ্যাত্মিক জীবনে এই 'ক্ষুধা' বা তৃষ্ণা থাকা খুব জরুরি। যে মনে করে সে সব জেনে গেছে, তার উন্নতি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যে অর্জুনের মতো বলে—'আরও বলুন', তার জন্য জ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্ত খুলে যায়। এটিই হলো 'বিভূতি যোগ'-এর সার্থকতা।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শ্রবণ-ভক্তির মহিমা শেখায়। ভগবানের কথা শোনাও একটি বড় সাধনা। যখন আমরা মন দিয়ে তাঁর মহিমা শুনি, তখন আমাদের ভেতর থেকে সব নেতিবাচকতা ধুয়ে যায়। অর্জুনের এই আকুলতা আমাদেরও ভগবানের বাণীর প্রতি আগ্রহী করে তোলে।