শ্রীভগবানুবাচ ।
হন্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা আত্মবিভূতয়ঃ ।
প্রাধান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে ॥ ১০.১৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
শ্রীভগবান বললেন—হে কুরুশ্রেষ্ঠ! শোনো, আমি আমার দিব্য বিভূতিসমূহের মধ্যে প্রধান প্রধান কয়েকটির কথা তোমাকে বলব; কারণ আমার ঐশ্বর্যের কোনো শেষ নেই।
১. প্রাধান্যতঃ বা প্রধানগুলি: কৃষ্ণের রূপ কোটি কোটি। সব বলা অসম্ভব এবং অর্জুনের পক্ষে সব মনে রাখাও কঠিন। তাই কৃষ্ণ বেছে বেছে শ্রেষ্ঠ আলঙ্কারিক উদাহরণগুলো দেবেন।
২. নাস্ত্যন্তো বা অনন্ত: ভগবানের সীমা কোনো ভাষা বা শব্দ দিয়ে বাঁধা যায় না। তিনি এক অসীম সমুদ্র, যার কিনারা কেউ খুঁজে পায়নি।
৩. হন্ত সম্বোধন: এটি একটি প্রীতিকর সম্বোধন। কৃষ্ণ খুব খুশির সাথে অর্জুনের অনুরোধ গ্রহণ করছেন।
কৃষ্ণ এখানে একজন শিক্ষকের মতো আচরণ করছেন। তিনি জানেন অর্জুনের ধারণক্ষমতা কতটুকু। তাই তিনি জট না পাকিয়ে মূল বা সার কথাগুলো বলতে রাজি হয়েছেন। এই শ্লোকটি আমাদের ঈশ্বরের অসীমতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
মানুষ যখন মনে করে সে ঈশ্বরকে পুরো বুঝে ফেলেছে, সেটিই হলো তার সবচেয়ে বড় ভুল। কৃষ্ণ বলছেন—আমি এত বিশাল যে আমি নিজেও আমার সব রূপ একবারে শেষ করতে পারব না। তবে অর্জুনের ভক্তির খাতিরে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রকাশগুলো তুলে ধরবেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের শেখায় যে ঈশ্বর অসীম হলেও তিনি ভক্তের কাছে সসীম হয়ে ধরা দেন। আমরা আমাদের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে তাঁর অসীমতাকে যতটুকু পারি গ্রহণ করি। কৃষ্ণের এই 'হ্যাঁ' বলা আমাদের আধ্যাত্মিক যাত্রাকে আরও আনন্দময় ও নিশ্চিত করে তোলে।