অহমাত্মা গুডাকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ ।
অহমাদিশ্চ মধ্যং চ ভূতানামন্ত এব চ ॥ ১০.২০ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে গুডাকেশ (অর্জুন)! আমি সমস্ত প্রাণীর হৃদয়ে অবস্থিত আত্মা। আমিই প্রাণীদের আদি (শুরু), মধ্য (স্থিতি) এবং অন্ত (শেষ)।
১. সর্বভূতাশয়স্থিতঃ: কৃষ্ণ দূরে কোনো বৈকুণ্ঠে নেই, তিনি প্রতিটি পিঁপড়ে থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে 'আত্মা' রূপে বসে আছেন।
২. আদি, মধ্য ও অন্ত: জগতটা যখন শুরু হয় তখন তিনি ছিলেন, এখন যখন জগত চলছে তখনও তিনি আছেন, এবং যখন সব শেষ হবে তখনও তিনিই থাকবেন। তিনি অবিনাশী।
৩. গুডাকেশ সম্বোধন: অর্জুন যিনি নিদ্রাকে জয় করেছেন। অর্থাৎ যার চেতনা সবসময় জাগ্রত, তিনিই এই মহান তত্ত্বটি বুঝতে সক্ষম।
এটি বিভূতি যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। কৃষ্ণ এখানে নিজের কার্ড খুললেন। তিনি বলছেন—অন্যান্য বাহ্যিক বিভূতি জানার আগে জেনে নাও যে আমি তোমার নিজের ভেতরেই আছি। আত্মার চেয়ে বড় বিভূতি আর কিছু নেই।
একটি হার যেমন সুতোর ওপর ভর করে থাকে, প্রতিটি প্রাণের স্পন্দন তেমনি কৃষ্ণের ওপর ভর করে আছে। তিনি না থাকলে দেহ ও জগতের কোনো অস্তিত্ব নেই। এই শ্লোকটি আমাদের আত্মদর্শনের প্রেরণা দেয়। বাইরে খোঁজার আগে নিজের ভেতরে তাকাতে শেখায়।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সর্বভূতে ঈশ্বর দেখার শিক্ষা দেয়। যদি কৃষ্ণ সবার হৃদয়ে থাকেন, তবে আমি কাউকে ঘৃণা করব কী করে? এই বোধই হলো প্রকৃত অহিংসা ও করুণার মূল। আমরা বুঝতে পারি যে এই পুরো জগতই কৃষ্ণের এক অখণ্ড লীলাভূমি।