॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ২১ ॥

আদিত্যানামহং বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্ ।
মরীচির্মরুতামস্মি নক্ষত্রাণামহং শশী ॥ ১০.২১ ॥

সরল ভাবার্থ:

আমি দ্বাদশ আদিত্যের মধ্যে বিষ্ণু, জ্যোতিষ্কদের মধ্যে কিরণবান সূর্য, মরুদ্গণের মধ্যে মরীচি এবং নক্ষত্রমণ্ডলীর মধ্যে চন্দ্র।

১. আদিত্যানামহং বিষ্ণুঃ: বারোজন আদিত্যের মধ্যে বিষ্ণু শ্রেষ্ঠ। কৃষ্ণ বলছেন সেই শ্রেষ্ঠত্বই আমি।

২. রবিরংশুমান্: আকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র আছে, কিন্তু সূর্যই আমাদের আলো ও জীবন দেয়। এই প্রাণদায়ী শক্তিই কৃষ্ণ।

৩. নক্ষত্রাণামহং শশী: নক্ষত্ররাজি থাকলেও রাতের আকাশ চাঁদের আলোয় মোহনীয় হয়। সৌন্দর্যের সেই পরম প্রকাশই কৃষ্ণ।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে কোনো শ্রেণির মধ্যে যা কিছু 'সর্বোত্তম' বা 'প্রভাবশালী', তা-ই তাঁর বিভূতি। সূর্যের তাপ না থাকলে পৃথিবী বরফ হয়ে যেত। তাই সূর্যোদয় দেখা মানেই কৃষ্ণের শক্তির এক ঝলক দেখা। রাতের আকাশের শীতলতা আর চাঁদের স্নিগ্ধতা আমাদের মনে যে শান্তি দেয়, তাও কৃষ্ণেরই বিভূতি।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের প্রকৃতিকে ভক্তিভরে দেখতে শেখায়। আমরা যখন চন্দ্র-সূর্য দেখি, তখন সেগুলো কেবল জড় পিণ্ড নয়, বরং কৃষ্ণের দিব্য বিভূতির বাহক। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি করে দেয়।