॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ২২ ॥

বেদানাং সামবেদোঽস্মি দেবানামস্মি বাসবঃ ।
ইন্দ্রিয়াণাং মনশ্চাস্মি ভূতানামস্মি চেতনা ॥ ১০.২২ ॥

সরল ভাবার্থ:

আমি বেদসমূহের মধ্যে সামবেদ, দেবগণের মধ্যে ইন্দ্র (বাসব), ইন্দ্রিয়গণের মধ্যে মন এবং সমস্ত প্রাণীর অন্তরে অবস্থিত চেতনা বা জীবনীশক্তি।

১. সামবেদ: সামবেদ হলো সংগীতময়। সুরের মাধ্যমে ঈশ্বরকে ডাকার যে মাধুর্য, তা-ই কৃষ্ণের প্রিয়।

২. মন: আমাদের পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয় থাকলেও মন ছাড়া কেউ কাজ করতে পারে না। ইন্দ্রিয়ের চালক হিসেবে মনই কৃষ্ণের বিভূতি।

৩. চেতনা: শরীরটা শুধু হাড়-মাংসের স্তূপ, যতক্ষণ না তাতে চেতনা থাকে। এই অদৃশ্য 'লাইফ ফোর্স' বা সচেতনতাই কৃষ্ণ।

কৃষ্ণ এখানে স্থূল জগত থেকে সূক্ষ্ম জগতের দিকে ইঙ্গিত করছেন। তিনি কেবল বাইরে নেই, তিনি আমাদের মনের চালিকাশক্তি। সামবেদের ঝংকার যেমন মনকে পবিত্র করে, তেমনি বিশুদ্ধ চেতনা আমাদের সত্যের পথে চালিত করে। দেবরাজ ইন্দ্রের ঐশ্বর্য ও শাসনক্ষমতাও কৃষ্ণেরই শক্তির একটি অংশ মাত্র।

এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের চিন্তা ও সংকল্পের মূলে ঈশ্বর আছেন। যদি আমরা আমাদের মনকে শুদ্ধ রাখি, তবে সহজেই তাঁকে অনুভব করতে পারি। চেতনা আছে বলেই আমরা ঈশ্বরকে ডাকার ক্ষমতা পাই, তাই এই জীবনটাই তাঁর দান।