রুদ্রাণাং শঙ্করশ্চাস্মি বিত্তেশো যক্ষরক্ষসাম্ ।
বসূনাং পাবকশ্চাস্মি মেরুঃ শিখরিণামহম্ ॥ ১০.২৩ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমি একাদশ রুদ্রের মধ্যে শঙ্কর (শিব), যক্ষ ও রাক্ষসদের মধ্যে কুবের (বিত্তেশ), অষ্টবসুর মধ্যে অগ্নি (পাবক) এবং পর্বতসমূহের মধ্যে সুমেরু পর্বত।
১. রুদ্রাণাং শঙ্করঃ: রুদ্রদের মধ্যে শঙ্কর কল্যাণকারী। বিনাশের শক্তির মাঝেও যে পরম মঙ্গল লুকিয়ে আছে, তা-ই কৃষ্ণ।
২. মেরুঃ শিখরিণাম্: সুমেরু পর্বতকে স্থিরতার প্রতীক ধরা হয়। জীবনের সব ঝড়ের মাঝেও যে অটল স্থৈর্য, তা কৃষ্ণের বিভূতি।
৩. পাবক বা অগ্নি: যা কিছু অপবিত্রকে পুড়িয়ে শুদ্ধ করে দেয়, অগ্নির সেই তেজ ও পবিত্রতা কৃষ্ণ।
শঙ্কর বা মহাদেব এবং কৃষ্ণের মধ্যে কোনো ভেদ নেই—এই শ্লোকটি তার প্রমাণ। ধ্বংস মানেই শেষ নয়, নতুনের জন্য জায়গা তৈরি করাই হলো শঙ্করের কাজ। কুবেরের ঐশ্বর্য যেমন জগতের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি সুমেরু পর্বত যেমন পৃথিবীকে ভারসাম্য দেয়, এই সবকিছুই কৃষ্ণের মহিমা ঘোষণা করে।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শক্তির পূজা করতে শেখায়। যখন আমরা জীবনে কোনো মহান স্থিরতা (যেমন পাহাড়) বা প্রচণ্ড তেজ (যেমন আগুন) দেখি, তখন আমাদের মাথা অবনত হওয়া উচিত এই ভেবে যে, এটি পরমেশ্বরেরই একটি রূপ।