প্রহ্লাদশ্চাস্মি দৈত্যানাং কালঃ কলয়তামহম্ ।
মৃগাণাং চ মৃগেন্দ্রোঽহং বৈনতেয়শ্চ পক্ষিণাম্ ॥ ১০.৩০ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমি দৈত্যদের মধ্যে প্রহ্লাদ, গণনাকারীদের মধ্যে কাল (সময়), পশুদের মধ্যে সিংহ (মৃগেন্দ্র) এবং পাখিদের মধ্যে গরুড় (বৈনতেয়)।
১. প্রহ্লাদ: আসুরিক পরিবেশে থেকেও যাঁর ভক্তি অটুট। প্রতিকূলতায় টিকে থাকার ভক্তিই কৃষ্ণ।
২. কাল (সময়): সময় সবকিছুর বিচার করে। সময়ের এই অজেয় শক্তিই পরমেশ্বর।
৩. সিংহ: পশুর রাজা। তেজ, বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক।
দৈত্যকুলে জন্মেও প্রহ্লাদ কেন ভগবানের বিভূতি? কারণ ভক্তি কোনো বংশ বা জাতির ওপর নির্ভর করে না। সময় বা 'কাল' হলো ভগবানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা রাজা-ভিখারি সবাইকে একাসনে বসায়। সিংহের গর্জন যেমন অরণ্যকে কাঁপায়, কৃষ্ণের তেজও তেমনি ব্রহ্মাণ্ডকে শাসন করে। গরুড় পাখি যেমন ক্ষিপ্র গতিতে আকাশপথে ওড়ে, আমাদের মনের গতিও যেন ভগবানের দিকে তেমন তীব্র হয়।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের পরিস্থিতির অজুহাত দিতে নিষেধ করে। প্রহ্লাদ যদি অসুরদের মাঝে থেকে ভক্ত হতে পারেন, তবে আমরা কেন পারব না? সময় বয়ে যাচ্ছে, তাই এখনই তাঁকে ডাকার সঠিক মুহূর্ত। এই শ্লোকটি আমাদের সাহসিকতা ও ভক্তির চরম প্রেরণা দেয়।