॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ৩১ ॥

পবনঃ পবতামস্মি রামঃ শস্ত্রভৃতামহম্ ।
ঝষাণাং মকরশ্চাস্মি স্রোতসামস্মি জাহ্নবী ॥ ১০.৩১ ॥

সরল ভাবার্থ:

আমি পবিত্রকারীদের মধ্যে বায়ু, শস্ত্রধারীদের মধ্যে আমি শ্রীরাম, মৎস্যদের মধ্যে আমি মকর এবং নদীসমূহের মধ্যে আমি গঙ্গা (জাহ্নবী)।

১. পবনঃ বা বায়ু: বায়ু যেমন জগতকে প্রাণ দেয় এবং সবকিছুকে শুদ্ধ করে, সেই অদৃশ্য জীবনীশক্তিই কৃষ্ণ।

২. রামঃ: মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের যে বীরত্ব ও ধর্মপরায়ণতা, তা কৃষ্ণেরই বিভূতি।

৩. জাহ্নবী: গঙ্গার পবিত্রতা ও পাপমোচন করার যে শক্তি, তা স্বয়ং কৃষ্ণ।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে পবিত্রতার শক্তির কথা বলছেন। বায়ু যেমন দুর্গন্ধ দূর করে, গঙ্গা যেমন কলুষতা দূর করে, তেমনি শ্রীরামচন্দ্রের আদর্শ অধর্ম দূর করে জগতকে পবিত্র করে। রামচন্দ্র কেন শ্রেষ্ঠ শস্ত্রধারী? কারণ তিনি অস্ত্র ধরেন কেবল ন্যায়ের জন্য। এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের শক্তি বা ক্ষমতা যেন সবসময় মঙ্গলের পথে ব্যয় হয়। আমরা যখন বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করি বা গঙ্গার শীতলতা অনুভব করি, তখন যেন সরাসরি ভগবানের উপস্থিতি অনুভব করি।