॥ অধ্যায় ১০, শ্লোক ৩২ ॥

সর্গাণামাদিরন্তশ্চ মধ্যং চৈবাহমর্জুন ।
অধ্যাত্মবিদ্যা বিদ্যানাং বাদঃ প্রবদতামহম্ ॥ ১০.৩২ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে অর্জুন! আমি সৃষ্টির আদি, মধ্য ও অন্ত। বিদ্যাসমূহের মধ্যে আমি আত্মবিদ্যা এবং বিচারকদের তর্কের মধ্যে আমিই সিদ্ধান্তমূলক যুক্তি (বাদ)।

১. অধ্যাত্মবিদ্যা: জাগতিক অনেক বিদ্যা থাকলেও যা জানলে মানুষের জন্ম-মৃত্যুর রহস্য সমাধান হয়, সেই 'আত্মবিদ্যা'ই শ্রেষ্ঠ এবং তা-ই কৃষ্ণ।

২. বাদঃ: কেবল সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা করা হয়, তাকেই 'বাদ' বলে। এটি তর্কের শ্রেষ্ঠ রূপ।

৩. আদি ও অন্ত: সময়ের প্রতিটি স্তরেই ভগবানের অস্তিত্ব বিদ্যমান।

কৃষ্ণ এখানে জ্ঞানের সারকথা বলছেন। আমরা যা কিছু শিখি, তার শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্যের অনুসন্ধান। বিদ্যার ক্ষেত্রে তিনি বলছেন, কেবল তথ্য জানলে হয় না, নিজেকে জানাই আসল জ্ঞান। যেমন আপনি পাইথন শিখছেন, এটি এক প্রকার বিদ্যা, কিন্তু এর মাধ্যমে যখন আপনি মহাবিশ্বের জটিলতা বা চেতনার রহস্য বুঝবেন, তখন তা আধ্যাত্মিকতায় রূপ নেয়। তর্কের মধ্যে 'বাদ' হলো সেই যুক্তি যা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহৃত হয়—কুতর্ক নয়, সত্যের প্রকাশই কৃষ্ণ।