সরল ভাবার্থ
হে কৌন্তেয়! এই তিন প্রকার তমোগুণেরূপ নরকের দ্বার থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ নিজের মঙ্গলের জন্য কাজ করে এবং এর ফলে সে পরম গতি প্রাপ্ত হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
পূর্ববর্তী শ্লোকে যে তিনটি দ্বারের (কাম, ক্রোধ, লোভ) কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে এখানে 'তমোদ্বার' বা অন্ধকারের প্রবেশপথ বলা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, যখন কোনো ব্যক্তি সফলভাবে এই তিনটি দোষ থেকে মুক্ত হতে পারে, তখন তার সামনে 'শ্রেয়' বা প্রকৃত মঙ্গলের পথ উন্মুক্ত হয়। সাধারণত কাম-ক্রোধে মত্ত মানুষ জানে না তার প্রকৃত ভালো কিসে। কিন্তু যখন মন শান্ত ও নির্মল হয়, তখনই মানুষ আত্মিক উন্নতির কাজ করতে শুরু করে (আচরত্যাত্মনঃ শ্রেয়ঃ)।
এই শ্লোকটি আশার বাণী শোনায়। এটি নির্দেশ করে যে, আসুরিক প্রবৃত্তি থাকা মানেই চিরতরে ধ্বংস নয়; যদি কেউ সচেতনভাবে এগুলো ত্যাগ করার চেষ্টা করে, তবে তার জন্য 'পরাং গতিম' বা পরমেশ্বরকে পাওয়ার পথ খোলা থাকে। মুক্তি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি হলো নিজের কুপ্রবৃত্তির ওপর জয়লাভের এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যখন একজন মানুষ লোভ ও রাগ ত্যাগ করে, তার বিবেক জাগ্রত হয়। এই জাগ্রত বিবেক তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং সৎ পথে চলতে সাহায্য করে। এই পথের শেষ গন্তব্য হলো পরম শান্তি এবং মোক্ষ। শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে উৎসাহিত করছেন যে, আসুরিক দোষগুলো ত্যাগ করা কষ্টসাধ্য হলেও তা অসম্ভব নয়। এবং এর পুরস্কার হলো অসীম আনন্দ ও অমরত্ব। প্রতিটি মানুষের জন্য এটি একটি নির্দেশিকা—যদি তুমি উন্নতি চাও, তবে আগে তোমার ভেতরের অন্ধকারকে বিদায় দাও।
তাত্ত্বিক গভীরতা: স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়, বরং নিজের প্রবৃত্তিগুলোর দাসত্ব থেকে মুক্তি। কাম-ক্রোধ মুক্ত মনই হলো ঈশ্বরের মন্দির। শুদ্ধ আচারই মানুষকে পশুত্ব থেকে দেবত্বে নিয়ে যায়।