॥ অধ্যায় ১৬, শ্লোক ৬ ॥

দ্বৌ ভূতসর্গৌ লোকেঽস্মিন্ দৈব আসুর এব চ ।
দৈবো বিস্তরশঃ প্রোক্ত আসুরং পার্থ মে শৃণু ॥ ৬ ॥

সরল ভাবার্থ

এই জগতে দুই প্রকার স্বভাবের জীব সৃষ্টি হয়েছে—দৈব ও আসুর। দৈব প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছি, এখন আসুর প্রকৃতি সম্পর্কে আমার কাছে শ্রবণ করো।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এই শ্লোকের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ জগতকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছেন। 'ভূতসর্গৌ' কথাটির অর্থ হলো প্রাণের বিকাশ বা স্বভাব। তিনি বলছেন যে জগতের প্রতিটি মানুষকে এই দুটি মেরুর একটিতে ফেলা যায়। এটি কেবল ভালো-মন্দের পার্থক্য নয়, এটি হলো চেতনার পার্থক্য। দৈব স্বভাবের মানুষরা পরমেশ্বরের শক্তির সাথে একীভূত হয়ে কাজ করে, কিন্তু আসুরিক স্বভাবের মানুষরা নিজেদের অহংকেই সব মনে করে।

কৃষ্ণ এর আগে (শ্লোক ১-৩) দৈব সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি অভয়, সত্য ও দানের মতো গুণের প্রশংসা করেছেন। এখন তিনি বলছেন যে অন্ধকারকেও চিনতে হবে। কেন অন্ধকার বা আসুরিকতা সম্পর্কে জানতে হবে? কারণ শত্রু বা অন্তরায় সম্পর্কে না জানলে তাকে জয় করা অসম্ভব। আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই এই দুই প্রবৃত্তির লড়াই চলে। কুপ্রবৃত্তিগুলোকে চেনার মাধ্যমেই আমরা সেগুলোকে বর্জন করতে পারি। কৃষ্ণের এই 'বিস্তরশঃ' আলোচনা ভক্তের জন্য এক দিকনির্দেশনা, যা তাকে মায়ার ধোঁকা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। সত্যের পথে চলার জন্য কেবল আলোকে চেনাই যথেষ্ট নয়, অন্ধকার গর্তগুলোকেও চিনতে হয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: জগত দ্বৈততায় পূর্ণ। এই দ্বৈততা বুঝলে মানুষের ভ্রান্তি দূর হয়। আসুর প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা আসলে আমাদের আত্মশুদ্ধির একটি প্রক্রিয়া। এটি সচেতনতা বৃদ্ধির এক অমূল্য মাধ্যম।