সরল ভাবার্থ
গুণত্রয় বিভাগে (সাংখ্য শাস্ত্রে) জ্ঞান, কর্ম এবং কর্তাকে তাদের গুণের পার্থক্য অনুসারে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। তুমি আমার কাছে সেইগুলোর যথাযথ পরিচয় শ্রবণ কর।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ) প্রভাব কীভাবে মানুষের জ্ঞান, কর্ম এবং ব্যক্তিত্বের ওপর পড়ে, তা বিস্তারিত আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। এই ত্রিগুণ হলো মহাজাগতিক সেই শক্তি যা প্রতিটি প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভগবান বলছেন যে, জ্ঞান যেমন এক প্রকারের হয় না, তেমনি কর্ম এবং মানুষের চরিত্রও এক প্রকারের হয় না।
এই শ্লোকটি আমাদের শিখায় যে কেন মানুষে মানুষে এত পার্থক্য দেখা যায়। কেন কেউ খুব শান্ত ও জ্ঞানী (সাত্ত্বিক), কেউ খুব কর্মচঞ্চল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী (রাজসিক), আবার কেউ খুব অলস ও বিভ্রান্ত (তামসিক)। এটি বুঝতে পারলে আমাদের জগতের প্রতি এক প্রকার সমানুভূতি তৈরি হয়। আমরা বুঝতে পারি যে মানুষের আচরণ আসলে তার ভেতরকার গুণের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
ভগবান এখানে অর্জুনকে বলছেন 'যথাচ্ছৃণু'—অর্থাৎ যথাযথভাবে শোনো। তিনি চান অর্জুন যেন নিজেকে এবং জগতকে এই তিনটি গুণের আলোয় বিচার করতে শিখেন। এটি কেবল তত্ত্ব নয়, এটি একটি আত্ম-বিশ্লেষণের পদ্ধতি। যখন আমরা আমাদের জ্ঞান এবং কর্মের মানদণ্ড জানতে পারি, তখন আমরা সচেতনভাবে নিম্নতর গুণ থেকে উচ্চতর গুণের দিকে যাত্রা করতে পারি। এই আলোচনার মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ আমাদের মোক্ষ বা মুক্তির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের মানসিক গড়নটি পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি রোডম্যাপের মতো।
তাত্ত্বিক গভীরতা: গুণই জগতকে পরিচালনা করে। এই তিন গুণের খেলা বুঝতে পারাই হলো জ্ঞানের পথে অগ্রসর হওয়া। গুণাতীত হওয়ার জন্য প্রথমে গুণের প্রভাব জানা প্রয়োজন।