সরল ভাবার্থ
হে ধনঞ্জয়! এখন তিন প্রকার গুণের প্রভাবে বুদ্ধি এবং ধৃতির (ধৈর্য বা সংকল্পশক্তি) যে ত্রৈবিধ্য ভেদ রয়েছে, তা তুমি আমার নিকট সবিস্তারে শ্রবণ কর।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
জ্ঞান, কর্ম এবং কর্তার পর শ্রীকৃষ্ণ এবার মানুষের ভেতরের সূক্ষ্ম যন্ত্র—'বুদ্ধি' এবং 'ধৃতি'র বিশ্লেষণে এসেছেন। 'বুদ্ধি' হলো আমাদের বিচার করার ক্ষমতা, যা দিয়ে আমরা ঠিক-ভুল নির্বাচন করি। আর 'ধৃতি' হলো সেই শক্তি যা দিয়ে আমরা আমাদের সংকল্পকে ধরে রাখি। এই দুটি জিনিসই মানুষের জীবনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
কেন একজন মানুষ খুব সহজে ভেঙে পড়ে আর অন্যজন পাহাড় সমান বাধা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে থাকে? কেন একজন মানুষ ভালো-মন্দ বুঝতে পারে আর অন্যজন ভুল পথে পা বাড়ায়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের বুদ্ধি ও ধৃতির গুণের মধ্যে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে 'ধনঞ্জয়' সম্বোধন করেছেন, যার অর্থ যিনি সম্পদ জয় করেছেন। এখানে সম্পদ কেবল টাকা নয়, বরং জ্ঞানের সম্পদ।
এই শ্লোকটি একটি বড় আলোচনার প্রস্তাবনা। ভগবান বলছেন 'অশেষেণ'—অর্থাৎ তিনি কোনো কিছু বাকি না রেখে বিস্তারিত বলবেন। এটি আমাদের মনস্তত্ত্বের গভীরতম বিশ্লেষণ। আমরা আমাদের বুদ্ধিকে কীভাবে আরও তীক্ষ্ণ করতে পারি এবং কীভাবে আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে (willpower) ইস্পাতের মতো শক্ত করতে পারি, সেই রহস্যই এখানে উন্মোচিত হবে। যারা আইআইটির মতো কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই বুদ্ধি ও ধৃতির বিজ্ঞান বোঝা অপরিহার্য। নিজেকে চেনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারি। ভগবান এখন সেই পথই দেখাচ্ছেন।
তাত্ত্বিক গভীরতা: বুদ্ধি হলো সারথি আর ধৃতি হলো লাগাম। এই দুইয়ের গুণগত উৎকর্ষের মাধ্যমেই জীবনের রথকে পরম লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রকৃতির গুণের খেলা বুঝতে পারলে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।