সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! যে সংকল্পশক্তির দ্বারা কুবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ নিদ্রা, ভয়, শোক, বিষাদ এবং গর্বকে ত্যাগ করতে পারে না (বরং এগুলোতে পড়ে থাকে), তাকে 'তামসী ধৃতি' বলা হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
তামসিক ধৃতি হলো অন্ধকারের প্রতি মানুষের জেদ। এখানে 'ধৃতি' শব্দটি নেতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো—ভুল বা অশুভ অভ্যাসগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক একগুঁয়ে মানসিকতা। তামসিক ব্যক্তি ঘুম (স্বপ্নং), ভয়, অপ্রয়োজনীয় শোক এবং বিষাদকে নিজের জীবনের অঙ্গ বানিয়ে ফেলে। সে এগুলো ছাড়তে চায় না। মজার বিষয় হলো, সে তার এই নেতিবাচক অবস্থাকেই 'ভাগ্য' বা 'অদৃষ্ট' বলে অজুহাত দেয়।
এই শ্লোকে 'দুর্মেধা' শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ, যার অর্থ হলো যার মেধা বা বুদ্ধি বিকারগ্রস্ত। তামসিক ধৃতি সম্পন্ন মানুষ মনে করে আলস্যই হলো শান্তি। সে নিজের অন্ধকার জগত থেকে বের হতে ভয় পায়। সে শোক করতে ভালোবাসে এবং নিজের অহংকারে (মদম্) মত্ত থাকে যে সে-ই সবচাইতে বেশি দুঃখী।
শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যে, এই ধরণের মানসিকতা আত্মাকে ধ্বংস করে দেয়। যা মানুষকে কর্মতৎপর করে না, যা মানুষের বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে রাখে, তা-ই তামসিকতা। আধ্যাত্মিক পথে চলতে হলে প্রথমে এই বিষাদ এবং আলস্যের সংকল্প ভাঙতে হবে। অন্ধকারকে ভালোবেসে কেউ আলোতে আসতে পারে না। এই ধৃতি হলো মায়ার সবচাইতে বড় জেলখানা।
তাত্ত্বিক গভীরতা: জড়তা এবং নেতিবাচকতাকে আঁকড়ে ধরাই হলো তামসিকতা। এটি মানুষের চেতনাকে নিম্নতর স্তরে নামিয়ে আনে। মুক্তির জন্য এই মোহভঙ্গ হওয়া একান্ত প্রয়োজন।