॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৪৩ ॥

শৌর্যং তেজো ধৃতির্দাক্ষ্যং যুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্ ।
দানমীশ্বরভাবশ্চ ক্ষাত্রং কর্ম স্বভাবজম্ ॥ ৪৩ ॥

সরল ভাবার্থ

বীরত্ব, তেজ, ধৈর্য, কর্মকুশলতা, যুদ্ধ থেকে পলায়ন না করা, দানশীলতা এবং শাসন করার ক্ষমতা—এগুলোই হলো ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজাত কর্ম।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

ক্ষত্রিয় শক্তির প্রতীক, কিন্তু সেই শক্তি কেবল পেশিবল নয়, তা হলো আত্মিক ও নৈতিক বল। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে বীরত্ব এবং তেজ ক্ষত্রিয়ের ভূষণ। 'ধৃতি' বা ধৈর্য ছাড়া শক্তি অন্ধ, তাই ক্ষত্রিয়ের অটল ধৈর্য থাকা প্রয়োজন। তিনি হবেন অত্যন্ত দক্ষ (দাক্ষ্যং) যাতে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করতে পারেন।

একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো 'যুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্'—অর্থাৎ সত্য ও ন্যায়ের লড়াই থেকে পিছু হটে না আসা। ক্ষত্রিয় সর্বদা অসহায়কে রক্ষা করতে প্রস্তুত থাকেন। তাঁর চরিত্রে থাকে দানশীলতা এবং 'ঈশ্বরভাব' বা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। তিনি অহংকারী শাসক নন, বরং প্রজাপালক হিসেবে নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি মনে করেন।

আধ্যাত্মিক বিচারে, আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই একজন ক্ষত্রিয় আছে। যখন আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই বা নিজের ভেতরের মন্দ প্রবৃত্তিগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, তখন আমরা ক্ষত্রিয়োচিত কর্ম করি। এই শ্লোকটি আমাদের সাহসী হতে শেখায়। দুর্বলতা কোনো ধর্ম হতে পারে না। ন্যায়ের জন্য লড়াই করা এবং দানবীর হওয়া আত্মার তেজ বৃদ্ধির পথ। ক্ষত্রিয় তাঁর ত্যাগের মাধ্যমে সমাজকে সুরক্ষা প্রদান করেন এবং এই কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই তিনি মোক্ষ লাভ করেন।
তাত্ত্বিক গভীরতা: রজঃগুণ যখন ন্যায়ের পথে পরিচালিত হয়, তখন তা ক্ষত্রিয় ধর্মে পরিণত হয়। সুরক্ষাই এই কর্মের মূল মন্ত্র। এটি কর্মযোগের এক বলিষ্ঠ প্রকাশ।