সরল ভাবার্থ
যাঁর বুদ্ধি সর্বত্র আসক্তিহীন, যাঁর মন বিজয়ী এবং যাঁর জাগতিক বাসনা বিদূরিত হয়েছে, তিনি সন্ন্যাসের (ত্যাগ) মাধ্যমে পরম নৈষ্কর্ম্য সিদ্ধি লাভ করেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এখানে শ্রীকৃষ্ণ 'নৈষ্কর্ম্য সিদ্ধি' বা কর্মবন্ধন থেকে মুক্তির উপায় বলছেন। এই অবস্থা মানে কাজ না করে বসে থাকা নয়, বরং কাজ করেও তাতে আবদ্ধ না হওয়া। এর জন্য তিনটি মানসিক স্তরের প্রয়োজন—১. আসক্তিহীন বুদ্ধি (যেকোনো ফলাফলকে সমানভাবে গ্রহণ করা), ২. আত্মজয়ী হওয়া (নিজের মন ও ইন্দ্রিয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ), ৩. স্পৃহাহীনতা (বাইরের কোনো প্রাপ্তি বা ভোগে আকাঙ্ক্ষা না থাকা)।
এই অবস্থার নামই হলো প্রকৃত 'সন্ন্যাস'। সন্ন্যাস মানে সংসার ত্যাগ করে পোশাক পরিবর্তন করা নয়, বরং মনের ভেতর থেকে কর্তৃত্বের ভাব ত্যাগ করা। যখন মানুষ ভাবে আমি করতা নই, ঈশ্বরই আমার দ্বারা করাচ্ছেন—তখন তাঁর কর্ম আর কোনো পাপ বা পুণ্য সৃষ্টি করে না। তিনি হয়ে ওঠেন মহাসমুদ্রের মতো শান্ত।
শাস্ত্রে একেই বলা হয়েছে জীবনমুক্তি। একজন মানুষ সব কাজ করেও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে পারেন। এই পরম নৈষ্কর্ম্য সিদ্ধি মানুষকে কর্মফল থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়। এটি এমন এক অবস্থা যেখানে কর্মই অকর্ম হয়ে যায়। আসক্তিই আমাদের শিকল, আর অনাসক্তিই হলো মুক্তি। যখন আমরা কোনো কিছুর বিনিময়ে কাজ করি না, কেবল ভালোবাসার টানে নিজের দায়িত্ব পালন করি, তখন আমরা এই সিদ্ধির স্বাদ পাই।
তাত্ত্বিক গভীরতা: সন্ন্যাস হলো মানসিক ত্যাগের উচ্চতর অবস্থা। যখন 'আমি' ভাব বিলীন হয়, তখন কর্ম আর বন্ধন থাকে না। এটিই পরম শান্তি ও মুক্তির চাবিকাঠি।