॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৬৫ ॥

মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্যাজী মাং নমস্কুরু ।
মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োঽসি মে ॥ ৬৫ ॥

সরল ভাবার্থ

আমাতে নিবিষ্টচিত্ত হও, আমার ভক্ত হও, আমার পূজা করো এবং আমাকে নমস্কার করো। তাহলে তুমি আমাকেই লাভ করবে। এটি আমার সত্য প্রতিজ্ঞা, কারণ তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার সারাতসার শ্লোক। এখানে ভগবান চারটি সহজ কাজের কথা বলেছেন যা যে কেউ যেকোনো অবস্থায় করতে পারেন। ১. 'মন্মনা ভব'—সব কাজে মনকে ভগবানের সাথে যুক্ত রাখা। ২. 'মদ্ভক্তো'—তাঁকে ভালোবাসা। ৩. 'মদ্যাজী'—জীবনের প্রতিটি কাজকে তাঁর পূজা হিসেবে করা। ৪. 'মাং নমস্কুরু'—অহংকার ত্যাগ করে তাঁর চরণে আত্মসমর্পণ করা।

এই চারটি কাজই হলো আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি। মজার ব্যাপার হলো, ভগবান এখানে কোনো কঠিন মন্ত্র বা যোগাসনের কথা বলেননি। তিনি কেবল চেয়েছেন আমাদের অন্তর। এর বিনিময়ে তিনি যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তা অভাবনীয়—'মামেবৈষ্যসি' বা তুমি আমাকেই পাবে। অর্থাৎ জীব ও পরমাত্মার মিলন ঘটবে।

এই শ্লোকটির সবচাইতে শক্তিশালী দিক হলো 'প্রতিজানে' অর্থাৎ আমি প্রতিজ্ঞা করছি। স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে বন্ড সই করে দিচ্ছেন! ঈশ্বর কখনো মিথ্যা বলেন না, তবুও ভক্তের মনকে শান্ত করার জন্য তিনি শপথ নিচ্ছেন। কেন? কারণ—তুমি আমার প্রিয়। এই ভালোবাসা কোনো শর্তের ওপর ভিত্তি করে নয়। এটি হলো নিঃস্বার্থ প্রেম। এই শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভগবানকে পাওয়া কঠিন নয়, বরং তাঁকে ভালোবাসাটাই আসল। আমরা যদি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে তাঁকে মনে রাখি, তবে তিনি আমাদের উদ্ধার করবেনই। এটিই গীতার অন্তিম আশ্বাস।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ভক্তি হলো সবচাইতে সহজ এবং সবচাইতে শক্তিশালী পথ। ভগবানের প্রতিজ্ঞা কখনো বৃথা যায় না। প্রেমই হলো ঈশ্বর প্রাপ্তির একমাত্র পাসপোর্ট।