॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৬৮ ॥

য ইদং পরমং গুহ্যং মদ্ভক্তেষ্বভিধাস্যতি ।
ভক্তিং ময়ি পরাং কৃত্বা মামেবৈষ্যত্যসংশয়ঃ ॥ ৬৮ ॥

সরল ভাবার্থ

যিনি আমার প্রতি পরা ভক্তি রেখে আমার ভক্তদের মধ্যে এই পরম গোপনীয় জ্ঞান প্রচার করেন, তিনি নিসন্দেহে আমাকেই লাভ করবেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

আগের শ্লোকে অযোগ্যদের কথা বলার পর, এখানে ভগবান প্রচারের মাহাত্ম্য বর্ণনা করছেন। ভগবানের জ্ঞান প্রচার করাকে বলা হয় 'জ্ঞান যজ্ঞ'। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, যারা তাঁর ভক্তদের মধ্যে গীতার বাণী ছড়িয়ে দেন, তারা তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। এটি এক প্রকারের নিঃস্বার্থ সেবা। যখন কেউ নিজে জ্ঞান লাভ করার পর তা অন্যকে বিলিয়ে দেয় যাতে অন্যদেরও মঙ্গল হয়, তখন সেই কাজটিতে কোনো অহংকার থাকে না।

'ভক্তিং ময়ি পরাং কৃত্বা'—অর্থাৎ এই প্রচারের পেছনে থাকতে হবে গভীর ভক্তি। এটি কোনো খ্যাতি বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। প্রচারকের লক্ষ্য হবে মানুষকে ভগবানের সাথে যুক্ত করা। এই ধরণের প্রচারক কেবল কথার মাধ্যমে নয়, নিজের আচরণের মাধ্যমেও গীতাকে তুলে ধরেন।

ভগবান এখানে বড় গ্যারান্টি দিয়েছেন—'মামেবৈষ্যত্যসংশয়ঃ' (নিঃসন্দেহে আমাকেই পাবে)। যারা ভগবানের কাজ করেন, ভগবান নিজেই তাদের দায়িত্ব নেন। এই জগতে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার চেয়ে বড় পরোপকার আর কিছু হতে পারে না। এই কাজের দ্বারা মানুষের হৃদয়ে ভক্তির বীজ বপন করা হয়। এই শ্লোকটি আধুনিক যুগের ধর্ম প্রচারকদের জন্য এক বিশাল প্রেরণা। এটি বুঝিয়ে দেয় যে, কেবল নিজের মুক্তি নয়, অন্যকে মুক্তির পথ দেখানোই হলো পরম সিদ্ধি।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ভগবানের কথা প্রচার করা হলো তাঁর ব্যক্তিগত সেবা করার মতো। এটি ভক্তকে দ্রুততম সময়ে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে দেয়। প্রচারই হলো ভক্তির বহিঃপ্রকাশ।