সরল ভাবার্থ
যিনি আমাদের এই ধর্মীয় কথোপকথন (গীতা) অধ্যয়ন করবেন, তাঁর দ্বারা আমি জ্ঞানযজ্ঞের মাধ্যমে পূজিত হবো—এটিই আমার অভিমত।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এখানে শ্রীকৃষ্ণ গীতা পাঠ বা অধ্যয়নের এক নতুন মাহাত্ম্য ঘোষণা করেছেন। যজ্ঞ বললেই আমরা সাধারণত আগুন জ্বালিয়ে ঘি অর্পণ করার কথা ভাবি। কিন্তু ভগবান বলছেন, এই গীতা পাঠ করাও এক প্রকার যজ্ঞ—যার নাম 'জ্ঞানযজ্ঞ'। যখন আমরা একাগ্রচিত্তে গীতা পড়ি বা শুনি, তখন আমরা আমাদের বুদ্ধিকে ভগবানের বাণীর সাথে যুক্ত করি। এটিও এক প্রকারের উপাসনা।
এই শ্লোকটি বুঝিয়ে দেয় যে, কেবল পূজার ঘরে ধূপ জ্বালানোই পূজা নয়; ভগবানের দর্শন বা তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর বাণী হৃদয়ঙ্গম করাও শ্রেষ্ঠ পূজা। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, যে ব্যক্তি গীতা পাঠ করেন, আমি মনে করি তিনি আমাকেই আরাধনা করছেন। এর কারণ হলো গীতা পড়ার সময় আমাদের মন ভগবানের চিন্তায় মগ্ন থাকে এবং আমরা জীবনের গভীর সত্যগুলো জানতে পারি।
এই 'জ্ঞানযজ্ঞ' মানুষের চিত্ত শুদ্ধ করে এবং তাঁকে উচ্চতর চেতনার দিকে নিয়ে যায়। গীতা কেবল একটি বই নয়, এটি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত অমৃত। তাই এটি পাঠ করা মানে সরাসরি তাঁর সান্নিধ্য লাভ করা। ভগবান এই শ্লোকের মাধ্যমে আমাদের উৎসাহিত করছেন নিয়মিত গীতা চর্চা করতে। যারা হয়তো অনেক কঠিন নিয়ম পালন করতে পারেন না, তাদের জন্য কেবল গীতা অধ্যয়নই মুক্তির পথ প্রশস্ত করে দিতে পারে। এটিই হলো কলিযুগের সবচাইতে সহজ ও কার্যকরী সাধনা।
তাত্ত্বিক গভীরতা: জ্ঞানযজ্ঞ হলো বুদ্ধির দ্বারা ঈশ্বরকে স্পর্শ করা। গীতা পাঠ কেবল পড়াশোনা নয়, এটি পরমাত্মার সাথে কথোপকথন। এটিই সবচাইতে পবিত্র যজ্ঞ।