সরল ভাবার্থ
হে রাজন! শ্রীহরির সেই অত্যন্ত অদ্ভুত বিশ্বরূপ বারবার স্মরণ করে আমি বিস্মিত হচ্ছি এবং বারবার পুলকিত হচ্ছি।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
আগের শ্লোকে সঞ্জয় বাণীর কথা বলেছিলেন, আর এখানে তিনি ভগবানের 'রূপ' এর কথা বলছেন। কুরুক্ষেত্রের ময়দানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর যে বিরাট বিশ্বরূপ (যা ১১ নম্বর অধ্যায়ে বর্ণিত) অর্জুনকে দেখিয়েছিলেন, সঞ্জয়ও তাঁর দিব্যদৃষ্টির মাধ্যমে তা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সেই অনন্ত হাত, মুখ, চোখ এবং স্বর্গ-মর্ত্য ব্যাপ্ত এক দিব্য তেজের কথা মনে করে তিনি বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছেন।
ঈশ্বরের রূপ কেবল দেখার বিষয় নয়, এটি ধ্যানের বিষয়। সঞ্জয় বলছেন—'বিস্ময়ো মে মহান্'। অর্থাৎ মানুষের বুদ্ধি সেই অসীম সৌন্দর্য ও শক্তি কল্পনাও করতে পারে না। তিনি যখনই সেই দিব্য রূপের কথা মনে করছেন, তখনই তাঁর অস্তিত্ব সেই মহান শক্তিতে শিহরিত হচ্ছে। 'হরি' শব্দটির অর্থ হলো যিনি সমস্ত অমঙ্গল হরণ করেন। সঞ্জয় সেই হরণকারী রূপের মধ্যে পরম আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছেন।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, ঈশ্বরকে আমরা কেবল জ্ঞানের দ্বারা নয়, অনুভূতির দ্বারাও অনুভব করতে পারি। ভগবানের সেই অসীম রূপের কথা ভাবলে আমাদের ক্ষুদ্র দুঃখ-কষ্টগুলো অতি নগণ্য মনে হয়। সঞ্জয়ের এই আনন্দ হলো একাধারে ভক্তি ও বিস্ময়ের মিলন। যখন মানুষ বুঝতে পারে যে এই মহাবিশ্বের পেছনে এক মহান চালিকাশক্তি আছেন যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও সুন্দর, তখন সে জীবনের সব ভয় কাটিয়ে ওঠে। সঞ্জয় সেই মহা-আনন্দের ঢেউয়ে ভাসছেন এবং বারবার পুলকিত হচ্ছেন।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ভগবানের রূপ ও গুণ ধ্যান করলে চিত্তের সংকীর্ণতা দূর হয়। মহাজাগতিক সেই বিরাট শক্তির স্মৃতি মানুষকে অহংকারমুক্ত ও শান্ত করে।