॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ২২ ॥

বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্ণাতি নরোঽপরাণি ।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্য
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ॥ ২২ ॥

সরল ভাবার্থ: যেমন মানুষ পুরোনো পোশাক ত্যাগ করে নতুন পোশাক গ্রহণ করে, তেমনি আত্মা পুরোনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটি গীতার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বোধগম্য উপমাগুলোর একটি। শ্রীকৃষ্ণ এখানে দেহান্তরের ধারণাকে অত্যন্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। পোশাক পরিবর্তন যেমন স্বাভাবিক, তেমনই দেহ পরিবর্তনও আত্মার জন্য স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমরা পোশাকের সঙ্গে নিজেদের এক করে দেখি না, অথচ দেহের সঙ্গে এক করে দেখি— এখানেই সমস্যার মূল।

মানুষ দেহকে নিজের আসল পরিচয় মনে করে বলেই বার্ধক্য, রোগ ও মৃত্যু তাকে ভয় দেখায়। গীতা বলছে— দেহ আত্মার বাহনমাত্র। বাহন নষ্ট হলে যাত্রী নষ্ট হয় না। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে গভীর মানসিক স্থিরতা দেয়।

এই শ্লোক আমাদের শেখায়— পরিবর্তন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবর্তনের সাথে লড়াই করলে কষ্ট বাড়ে, আর পরিবর্তনকে সত্য হিসেবে মেনে নিলে শান্তি আসে। আত্মার এই দেহান্তরবোধ জীবনের প্রতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
[ছবি: পুরোনো ও নতুন বস্ত্রের মাধ্যমে দেহান্তরের প্রতীকী দৃশ্য।]