॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ৬ ॥

ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরন্নো গরীয়ো য়দ্বা জয়েম য়দি বা নো জয়েয়ুঃ ।
য়ানেব হত্বা ন জিজীবিষামস্তেঽবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাষ্ট্রাঃ ॥ ৬ ॥

সরল ভাবার্থ

আমরা জানি না আমাদের জন্য কোনটি বেশি ভালো—আমরা তাদের জয় করব নাকি তারা আমাদের জয় করবে। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের হত্যা করে আমরা বেঁচে থাকতে চাই না, অথচ তাঁরাই আমাদের সামনে যুদ্ধের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

অর্জুন এখানে চরম দোটানায় পড়েছেন। একে বলা হয় 'নির্ণয়হীনতা'। তিনি বুঝতে পারছেন না যুদ্ধ করা ভালো নাকি না করা। একদিকে আছে রাজ্য হারানো ও অপমানের গ্লানি, অন্যদিকে আছে আত্মীয় হত্যার মহাপাপ। অর্জুন বলছেন যে জয়ের চেয়ে পরাজয়ই হয়তো ভালো, কারণ যুদ্ধে জয়ী হয়েও যদি প্রিয়জনরাই না থাকে, তবে সেই জীবনের আর কোনো দাম নেই।

'ন চৈতদ্বিদ্মঃ'—এই শব্দটি মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তাকে নির্দেশ করে। আমরা যখন কোনো বড় বিপদে পড়ি, তখন আমাদের বিচারবুদ্ধি কাজ করে না। অর্জুন এখানে বিষাদের এক গভীর স্তরে পৌঁছেছেন যেখানে তিনি জয় বা পরাজয়—কোনো কিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের প্রতি ঘৃণার বদলে করুণা অনুভব করছেন, কারণ তিনি জানেন তাঁদের মৃত্যু অনিবার্য।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো মানুষের সীমাবদ্ধতার প্রকাশ। মানুষ যখন কেবল নিজের বুদ্ধির ওপর ভরসা করে, তখন সে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না। অর্জুনের এই বিভ্রান্তিই তাঁকে আধ্যাত্মিক দীক্ষার জন্য তৈরি করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ মনে করে সে নিজে সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে, ততক্ষণ সে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হয় না। অর্জুন এখন বুঝতে পারছেন যে তাঁর বীরত্ব বা পাণ্ডিত্য কোনো কাজে আসছে না। এই মানসিক অসহায়তা থেকেই প্রকৃত প্রার্থনার জন্ম হয়।