সরল ভাবার্থ
কিন্তু যিনি রাগ এবং দ্বেষ থেকে মুক্ত এবং যাঁর ইন্দ্রিয়সমূহ তাঁর নিজের বশে, তিনি বিষয় গ্রহণ করেও পরম প্রশান্তি বা প্রসাদ লাভ করেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
আগের শ্লোকে ধ্বংসের ম্যাপ দেখানোর পর শ্রীকৃষ্ণ এখানে মুক্তির উপায় বলছেন। অনেকে মনে করেন আধ্যাত্মিক হতে হলে জগত ছেড়ে হিমালয়ে যেতে হবে বা চোখ-কান বন্ধ করে থাকতে হবে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন—না, তুমি জগতেই থাকবে, বিষয়ও গ্রহণ করবে, কিন্তু তা হতে হবে 'রাগদ্বেষবিযুক্ত' হয়ে। অর্থাৎ কোনো জিনিসের প্রতি অতিরিক্ত টান থাকবে না, আবার কোনো জিনিসের প্রতি ঘেন্নাও থাকবে না।
একজন স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি তাঁর ইন্দ্রিয়গুলোকে বশে রাখেন ('আত্মবশ্যৈ')। তিনি যখন দেখেন, তিনি আসক্তি ছাড়া দেখেন; যখন শোনেন, তিনি পক্ষপাতহীনভাবে শোনেন। একেই বলা হয় 'বিধেয়াত্মা' বা সংযত মন। যখন মন এই স্তরে পৌঁছায়, তখন সে 'প্রসাদ' লাভ করে। প্রসাদ মানে কেবল খাওয়ার জিনিস নয়, প্রসাদ মানে হলো মনের এক দিব্য স্বচ্ছতা ও শান্তি। এটি সেই তৃপ্তি যা বাইরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো জগতের মাঝে থেকেও জললিপ্ত পদ্মপাতার মতো থাকা। অর্জুনকে যুদ্ধ করতে হবে, স্বজনদের ওপর বাণ নিক্ষেপ করতে হবে—এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিন্তু তিনি যদি রাগ (হিংসা) এবং দ্বেষ (ঘৃণা) ত্যাগ করে কেবল কর্তব্যবোধে কাজ করেন, তবে তিনি হৃদয়ে সেই প্রসাদ বা শান্তি অনুভব করবেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত সাধনা হলো ব্যবহারের মাধ্যমে—জগতকে ভয় পেয়ে পালানোর মধ্যে নয়। যখন আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোর মালিক হই, তখন পুরো জগত আমাদের সেবায় নিয়োজিত হয় এবং আমাদের মন থাকে শান্ত সাগরের মতো গভীর।