সরল ভাবার্থ
চিত্ত প্রসন্ন হলে সমস্ত দুঃখের নাশ হয়। আর যাঁর চিত্ত প্রসন্ন, তাঁর বুদ্ধি শীঘ্রই স্থির ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে একটি পরম সত্য বলছেন—সমস্ত দুঃখের মূল হলো মনের অশান্তি। যখন মন প্রসন্ন হয়, তখন পৃথিবীর কোনো দুঃখই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। প্রসাদ বা মনের স্বচ্ছতা থাকলে 'সর্বদুঃখানাং হানিঃ' ঘটে। এর মানে এই নয় যে বাইরের সমস্যা চলে যাবে, বরং এর মানে হলো সমস্যাগুলো আর মনের শান্তি নষ্ট করতে পারবে না। যেমন পরিষ্কার জলে নিচের পাথর দেখা যায়, তেমনি প্রসন্ন মনে সত্য এবং পরমাত্মাকে পরিষ্কার দেখা যায়।
ভগবান বলছেন যে প্রসন্ন চিত্তের মানুষের বুদ্ধি খুব দ্রুত ('আশু') স্থির হয়ে যায়। আমরা যখন রেগে থাকি বা দুঃখে থাকি, তখন আমাদের বুদ্ধি টলমল করে। কিন্তু মনের গহীনে যদি প্রশান্তি থাকে, তবে বুদ্ধি হবে ধ্রুবতারার মতো অটল। অর্জুন যে শোকে মুহ্যমান ছিলেন, তা কেবল তাঁর বুদ্ধির অস্থিরতার ফল। শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে বলছেন যে তুমি যদি প্রসন্ন হতে শেখো, তবে এই যুদ্ধের বিভীষিকাও তোমাকে বিচলিত করবে না।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো আত্মিক মুক্তির পূর্বাভাস। প্রসন্নতা মানে কেবল হাসি-তামাশা নয়, এটি হলো এক গভীর সন্তোষ। এটি আসে যখন আমরা বুঝি যে ঈশ্বর আমাদের সাথে আছেন। একজন প্রসন্ন ব্যক্তি জীবনের প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন, অভিশাপ হিসেবে নয়। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো একটি আনন্দময় ও স্বচ্ছ মন। যখন বুদ্ধি সেই প্রসন্নতায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মানুষ পরম পদের দিকে ধাবিত হয়। এটিই হলো যোগের সার্থকতা।