॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ১ ॥

শ্রীভগবানুবাচ ।
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্ ।
বিবস্বান্ মনবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেঽব্রবীত ॥ ৪.১ ॥

সরল ভাবার্থ

শ্রীভগবান বললেন—আমি সৃষ্টির আদিতে এই অবিনাশী যোগতত্ত্ব সূর্যদেব বিবস্বানকে বলেছিলাম। সূর্য তাঁর পুত্র মনুকে এবং মনু তাঁর পুত্র ইক্ষ্বাকুকে এই জ্ঞান প্রদান করেছিলেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

চতুর্থ অধ্যায়ের শুরুতেই শ্রীকৃষ্ণ এক ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে গীতার জ্ঞানের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। তিনি বলছেন যে, এই কর্মযোগ বা আত্মজ্ঞান কোনো নতুন আবিষ্কার নয়। এটি এক অতি প্রাচীন ও সনাতন ধারা। ভগবান এই জ্ঞান সর্বপ্রথম সূর্যদেবকে দিয়েছিলেন। সূর্য থেকে এটি মনু (মানজাতির আদি পিতা) এবং মনু থেকে রাজা ইক্ষ্বাকুর (যাঁর বংশে ভগবান রামচন্দ্র জন্মেছিলেন) কাছে পৌঁছায়।

এই শ্লোকটি আমাদের 'পরম্পরা' বা বংশানুক্রমিক শিক্ষার গুরুত্ব শেখায়। হিন্দু ধর্মে গুরু-শিষ্য পরম্পরা অত্যন্ত পবিত্র। কৃষ্ণ অর্জুনকে জানাচ্ছেন যে, তিনি যে পথ দেখাচ্ছেন তা কোনো আধুনিক বা পরীক্ষামূলক পথ নয়; বরং এটি হলো সেই রাজপথ যা দিয়ে জগতের আদি রাজর্ষিরা চলেছেন। সূর্যকে এই জ্ঞান দেওয়ার অর্থ হলো—সূর্য যেমন অবিরাম কোনো আকাঙ্ক্ষা ছাড়া জগতকে আলো দিয়ে কর্মযোগ পালন করে, তেমনি মানুষের জীবনও যেন নিষ্কাম কর্মে আলোকিত হয়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি শ্রীকৃষ্ণের পরমেশ্বর সত্তার প্রমাণ। অর্জুন তাঁকে তাঁর বন্ধু মনে করছিলেন, কিন্তু কৃষ্ণ এখানে ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। তিনি সৃষ্টির প্রারম্ভেও ছিলেন এবং দেবতাদেরও শিক্ষক ছিলেন। এই জ্ঞানটি 'অব্যয়' বা অক্ষয়, অর্থাৎ এটি কোনোদিন পুরনো হয় না। এটি আমাদের শেখায় যে সত্য সবসময় চিরন্তন থাকে, কেবল মানুষের ভুলে তা মাঝে মাঝে ঢাকা পড়ে যায়। কৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে সেই পবিত্র উত্তরাধিকারের অংশীদ্বার হিসেবে তৈরি করছেন।