॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ৩৫ ॥

যজ্জ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পাণ্ডব ।
যেন ভূতান্যশেষাণি দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো ময়ি ॥ ৪.৩৫ ॥

সরল ভাবার্থ

হে পাণ্ডব! যে জ্ঞান লাভ করলে তুমি আর পুনরায় এই প্রকার মোহে পতিত হবে না এবং যে জ্ঞানের দ্বারা তুমি সমস্ত প্রাণীকে নিজের আত্মায় এবং আমার মধ্যে দর্শন করবে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি এই অধ্যায়ের চূড়ান্ত অনুভূতি। এখানে শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানের চরম পরিণাম বর্ণনা করেছেন:

১. মোহমুক্তি: জ্ঞান লাভের প্রথম লক্ষণ হলো বিভ্রান্তি দূর হওয়া। অর্জুন আগে নিজের আত্মীয়-স্বজন দেখে মোহাচ্ছন্ন হয়েছিলেন। এই দিব্য জ্ঞান লাভ করলে মানুষ বুঝতে পারে যে শরীর নষ্ট হলেও আত্মা অবিনাশী। তখন আর মৃত্যু বা বিচ্ছেদের ভয় থাকে না।

২. সর্বভূতৈকত্ব: জ্ঞানের শিখর হলো যখন কেউ দেখে যে প্রতিটি প্রাণের ভেতরে একই পরমাত্মা বিরাজ করছেন। তখন মানুষের মধ্যে আর 'উঁচু-নিচু' বা 'পর-আপন' ভেদ থাকে না। সে নিজের আত্মাকে যেমন ভালোবাসে, জগতকেও ঠিক তেমনই ভালোবাসতে শেখে।



৩. আতমন্যথো ময়ি: এটি অদ্বৈত অনুভূতির কথা বলে। যোগী দেখেন যে জগত তাঁর ভেতরে আছে, তিনি ভগবানের ভেতরে আছেন এবং ভগবান সবার ভেতরে আছেন। এটি এক অখণ্ড আনন্দের অবস্থা।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সংকীর্ণতা দূর করে। আমরা সাধারণত স্বার্থপর হয়ে বাঁচি, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে সমস্ত প্রাণীই আসলে আমারই অংশ। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, তাঁরাও কৃষ্ণেরই অংশ এবং যাঁদের হয়ে লড়ছেন তাঁরাও তাই। এই পরম একত্ববোধ মানুষের জীবন থেকে হিংসা ও ঘৃণা চিরতরে মুছে দেয়। এটিই হলো প্রকৃত মুক্তির রূপ।