॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ৭ ॥

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ॥ ৪.৭ ॥

সরল ভাবার্থ

হে ভারত (অর্জুন)! যখনই ধর্মের গ্লানি উপস্থিত হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে প্রকট করি (অর্থাৎ অবতাররূপে অবতীর্ণ হই)।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার সর্বাধিক পরিচিত এবং প্রভাবশালী শ্লোকগুলোর একটি। এখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অবতার হওয়ার সময়কাল বর্ণনা করেছেন। 'ধর্ম' মানে কেবল পূজা-পার্বণ নয়, বরং মহাবিশ্বের ভারসাম্য এবং ন্যায়ের পথ। যখন মানুষ সত্য, দয়া ও পবিত্রতা ভুলে গিয়ে পাশবিক হয়ে ওঠে, তখনই সৃষ্টিতে 'গ্লানি' বা অবক্ষয় দেখা দেয়।

ভগবান বলছেন, তিনি তখনই নিজেকে 'সৃজাম্যহম্' বা সৃষ্টি করেন। এখানে সৃষ্টি মানে নতুন কিছু তৈরি করা নয়, বরং অব্যক্ত রূপ থেকে ব্যক্ত রূপে আসা। যেমন আকাশে জলীয় বাষ্প সবসময় থাকে কিন্তু বৃষ্টির সময় তা ঘনীভূত হয়ে দেখা দেয়, তেমনি ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান থাকলেও প্রয়োজনের সময় তিনি সাকার রূপে আমাদের সামনে আসেন।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের অসীম সাহস যোগায়। এটি আমাদের নিশ্চিন্ত করে যে আমরা কখনো একা নই। যখনই পৃথিবী আসুরিক শক্তিতে ভরে যায়, তখনই পরমেশ্বর নিজে এসে হাল ধরেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন যখন দিশেহারা, তখন কৃষ্ণ তাঁকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে এই যুদ্ধ কোনো ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, এটি ধর্মের গ্লানি মোচনের এক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া। এই শ্লোকটি ইতিহাসের চাকা ঘোরানোর ইঙ্গিত দেয়—অশুভ শক্তি সাময়িকভাবে জিতলেও শেষ পর্যন্ত জয় ধর্মেরই হয়, কারণ স্বয়ং ঈশ্বর তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন।