॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ৯ ॥

জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোঽর্জুন ॥ ৪.৯ ॥

সরল ভাবার্থ

হে অর্জুন! আমার এই জন্ম ও কর্ম দিব্য—যিনি এটি তত্ত্বগতভাবে জানেন, তিনি শরীর ত্যাগ করার পর আর জন্মগ্রহণ করেন না, বরং আমাকেই লাভ করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি হলো আধ্যাত্মিক উন্নতির শর্টকাট বা এক নিগুঢ় রহস্য। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, তাঁকে পরমেশ্বর হিসেবে চেনাটাই মুক্তির পথ। সাধারণ মানুষের কাছে কৃষ্ণের জন্ম মথুরার কারাগারে এক সাধারণ শিশুর মতো মনে হতে পারে এবং তাঁর কর্মগুলো সাধারণ মানুষের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু যিনি এর ভেতরের 'দিব্যত্ব' বুঝতে পারেন, তিনি মায়ামুক্ত হন।

'তত্ত্বতঃ' জানার অর্থ হলো কেবল তথ্য জানা নয়, বরং হৃদয়ে অনুভব করা যে কৃষ্ণ কোনো শরীরের নাম নয়, তিনি সর্বব্যাপী সত্য। যখন কেউ বুঝতে পারে যে কৃষ্ণের প্রতিটি লীলা জগতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তাঁর প্রতিটি কাজ আসক্তিহীন, তখন সেই ভক্তের নিজের আসক্তিও কেটে যায়।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি ভক্তিযোগের চরম অবস্থা। যদি কেউ সারাদিন পুজো নাও করতে পারে, কিন্তু সে যদি গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর তাঁর কর্মের মাধ্যমে লীলা করছেন, তবে সে মৃত্যুভয় জয় করে। শরীর ত্যাগ করার পর তাকে আর জন্ম-মৃত্যুর যন্ত্রণায় ফিরে আসতে হয় না। সে কৃষ্ণের সেই নিত্য ধামে বা পরম ধামে পৌঁছে যায়। অর্জুনকে কৃষ্ণ এখানে একটি উপহার দিচ্ছেন—তাঁকে বন্ধু হিসেবে নয়, বরং পরমেশ্বর হিসেবে জানার ফলেই অর্জুন অমরত্ব লাভ করবেন। এটি আমাদের পরম গন্তব্যের সন্ধান দেয়।