॥ অধ্যায় ৭, শ্লোক ১৮ ॥

উদ্বারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্ ।
আস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্ ॥ ৭.১৮ ॥

সরল ভাবার্থ:

এই সব ভক্তই উদার বা মহৎ, কিন্তু জ্ঞানীকে আমি আমার নিজের আত্মা বলেই মনে করি। কারণ তিনি আমাতেই মন স্থির করে আমাকেই জীবনের শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

শ্রীকৃষ্ণ এখানে এক অকল্পনীয় কথা বলেছেন—ভক্তই তাঁর আত্মা। এটি ঈশ্বর ও ভক্তের অদ্বৈত অনুভূতির এক পরম উদাহরণ।

১. উদার ভক্ত: কৃষ্ণ বলছেন যে যারা তাঁর কাছে পার্থিব জিনিসের জন্য আসে, তারাও ‘উদার’। কারণ অন্তত তারা ভগবানের অস্তিত্ব স্বীকার করেছে। এই বিশাল হৃদয়ের পরিচয় দিয়ে কৃষ্ণ আমাদের শেখাচ্ছেন যে কাউকে ছোট করা উচিত নয়। ভক্তের প্রতিটি পদক্ষেপই মহান। কিন্তু এর মধ্যে জ্ঞানীর স্থান এক অনন্য উচ্চতায়।

২. ভক্তই ভগবানের আত্মা: ‘জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্’—এটি ভক্তের প্রতি ভগবানের এক চরম স্বীকৃতির বাণী। একজন জ্ঞানী ভক্ত যেহেতু সবকিছুতে কৃষ্ণকে দেখেন, কৃষ্ণও সেই ভক্তের ভেতরে নিজেকে দেখেন। তাদের মধ্যে আর কোনো বিভেদ থাকে না। যেমন সমুদ্র ও তার ঢেউ এক, তেমনি কৃষ্ণ ও তাঁর ভক্ত এক হয়ে যান। এটি ভক্তির সেই স্তর যেখানে ভক্ত ও ভগবান অভিন্ন।

৩. অনুত্তম গতি: জ্ঞানী ভক্ত অন্য কোনো স্বর্গ বা মর্ত্যের সুখ চান না। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো কৃষ্ণ স্বয়ং (‘মামেবানুত্তমাং গতিম্’)। যখন লক্ষ্য হয় স্বয়ং পরমেশ্বর, তখন ক্ষুদ্র কোনো জগত তাকে আর বেঁধে রাখতে পারে না। এই স্থির সংকল্পই ভক্তকে ভগবানের সাথে এক করে দেয়।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে আমরা যদি সত্যই ঈশ্বরকে চাই, তবে আমরা তাঁর আত্মার অংশ হয়ে যেতে পারি। এটি আমাদের ভক্তির গভীরতা বাড়ানোর প্রেরণা দেয়। কোনো স্বার্থ ছাড়া কেবল তাঁকে পাওয়ার ইচ্ছাটিই হলো আধ্যাত্মিক জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এটি আমাদের মুক্তির গ্যারান্টি দেয়।