রসোঽহমপ্সু কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ ।
প্রণবঃ সর্ববেদেষু শব্দঃ খে পৌরুষং নৃষু ॥ ৭.৮ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে কৌন্তেয়! আমিই জলের স্বাদ, আমিই চন্দ্র ও সূর্যের প্রভা বা আলো। আমি সমস্ত বেদের ‘ওঁ’ (প্রণব), আকাশের শব্দ এবং মানুষের পুরুষকার বা বীরত্ব।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:
শ্রীকৃষ্ণ এখানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য চোখ বন্ধ করার দরকার নেই, চোখ খোলা রাখলেও তাঁকে দেখা যায়। তিনি বস্তুর ভেতরের ‘গুণ’ বা ‘সারতত্ত্ব’ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন।
১. জলের রস ও সূর্যের আলো: জল যখন আমরা পান করি, তখন তার এক অদ্ভুত স্বাদ বা তৃপ্তি অনুভব করি। কৃষ্ণ বলছেন সেই স্বাদটিই আমি। সূর্যের প্রখর তেজ বা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো হলো ঈশ্বরেরই বিভূতি। প্রকৃতি তার যে শক্তির মাধ্যমে আমাদের মুগ্ধ করে, সেই মূল শক্তিই হলো ভগবান। এটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃতির প্রতিটি দানেই ভগবানের আশীর্বাদ মিশে আছে।
২. প্রণব ও শব্দ: বেদের মূল হলো ‘ওঁকার’ বা প্রণব। সমস্ত আধ্যাত্মিক জ্ঞানের উৎস হলো এই শব্দ। আবার আকাশ বা ইথারের ধর্ম হলো শব্দ। কৃষ্ণ বলছেন যে তিনি সেই আদি কম্পন বা সাউন্ড এনার্জি যা থেকে এই ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে। এটি আমাদের শেখায় যে আমরা যা কিছু শুনি বা পড়ি, তার মূলে রয়েছে সেই এক দিব্য সুর।
৩. পৌরুষং নৃষু বা মানুষের বীরত্ব: এটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক কথা। একজন মানুষের ভেতরে যে সাহস, দক্ষতা এবং জয় করার শক্তি থাকে, তা কৃষ্ণেরই অংশ। আমরা যখন কোনো মহৎ কাজ করি, তখন আসলে কৃষ্ণের শক্তিই আমাদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এটি আমাদের অহংকার ত্যাগ করে কৃতজ্ঞ হতে শেখায়।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে পূজায় রূপান্তরিত করতে শেখায়। জল খাওয়ার সময় বা সূর্যের দিকে তাকানোর সময় যদি আমরা শ্রীকৃষ্ণকে মনে করি, তবে আমাদের প্রতিটি জাগতিক কাজই আধ্যাত্মিক সাধনায় পরিণত হয়। এটি আমাদের জগতকে ভালোবাসতে শেখায় কারণ জগত তাঁরই রূপ।