॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১ ॥

অর্জুন উবাচ ।
কিং তদ্ব্রহ্ম কিমধ্যাত্মং কিং কর্ম পুরুষোত্তম ।
অধিভূতং চ কিং প্রোক্তমধিদৈবং কিমুচ্যতে ॥ ৮.১ ॥

সরল ভাবার্থ:

অর্জুন বললেন—হে পুরুষোত্তম! সেই ব্রহ্ম কী? অধ্যাত্ম কী? কর্মই বা কী? আর অধিভূত এবং অধিদৈব বলতে কী বোঝায়?

১. অর্জুনের সাতটি মৌলিক প্রশ্ন: সপ্তম অধ্যায়ের শেষে শ্রীকৃষ্ণ কয়েকটি পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। অর্জুন এখানে সেই শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ জানতে চাইছেন। অর্জুন বুঝতে পারছেন যে এই শব্দগুলোর জ্ঞান ছাড়া ঈশ্বরকে পূর্ণরূপে জানা সম্ভব নয়।

২. পুরুষোত্তম সম্বোধন: অর্জুন এখানে কৃষ্ণকে ‘পুরুষোত্তম’ বলে সম্বোধন করেছেন। এর অর্থ হলো—যিনি সমস্ত পুরুষের (জীব ও প্রকৃতি) ঊর্ধ্বে। অর্জুন জানেন যে এই মহাজাগতিক রহস্যগুলোর উত্তর কেবল পরমেশ্বরই দিতে পারেন।

৩. ব্রহ্ম ও কর্মের জিজ্ঞাসা: অর্জুনের প্রথম প্রশ্নই হলো ‘ব্রহ্ম’ সম্পর্কে। ব্রহ্ম কি কোনো ব্যক্তি নাকি কোনো শক্তি? আবার ‘কর্ম’ কী? আমরা যা করি তাই কি কর্ম, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ধর্মীয় অর্থ আছে? এই প্রশ্নগুলো একজন সত্য অনুসন্ধিৎসু শিষ্যের পরিচায়ক।

অষ্টম অধ্যায়ের শুরুতেই অর্জুনের এই প্রশ্নগুলো প্রমাণ করে যে তিনি কেবল যুদ্ধের কৌশল জানতে আগ্রহী নন, বরং তিনি জীবনের মূল রহস্য উন্মোচন করতে চান। ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি নিয়ে উপনিষদে অনেক আলোচনা আছে, কিন্তু অর্জুন কৃষ্ণের মুখ থেকে তার সহজ ব্যাখ্যা শুনতে চান।

অধ্যাত্ম মানে কি কেবল পূজা-অর্চনা? নাকি নিজের আত্মার পরিচয়? অর্জুনের এই ব্যাকুলতা আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিক পথে এগোনোর জন্য শব্দগুলোর সঠিক অর্থ জানা কতটা জরুরি। ভুল ধারণা নিয়ে সাধনা করলে ভুল ফল পাওয়া যায়।

অধিভূত এবং অধিদৈব এই শব্দ দুটি আমাদের পঞ্চভৌতিক জগত এবং দেবতাদের নিয়ন্ত্রক শক্তির ইঙ্গিত দেয়। অর্জুন জানতে চান জগত কীভাবে চলে এবং এর পেছনে চালিকাশক্তি কারা। এই শ্লোকটি আসলে সমগ্র গীতার এক তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপন করে।